হরমুজ প্রণালী পার করল ২টি ভারতীয় তেল ট্যাঙ্কারIran USA War: বিশ্ব রাজনীতির ভরকেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ যত ঘনীভূত হচ্ছে, ততই আশঙ্কার প্রহর গুনছে ভারত। বিশেষ করে হর্মুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক উত্তজনা ভারতের এলপিজি (LPG) এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে এক বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমান উপসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই জলপথটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য লাইফলাইন বা জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত। ইরান ও পশ্চিমী দুনিয়ার মধ্যে চলা এই সংঘাতের জেরে যদি হর্মুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে ভারতের ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাসের জোগান এবং তেলের দামে বড়সড় ওলটপালট ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে নয়াদিল্লির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির একটি বিশাল অংশ এই হর্মুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের আবহে যদি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারগুলির যাতায়াত ব্যাহত হয়, তবে দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। শুধু জোগান নয়, বিমা মাসুল এবং পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমজনতার পকেটেও বড়সড় টান পড়ার সম্ভাবনা থাকছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যে ভারতের বিদেশ ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বিকল্প পথের সন্ধানে তোড়জোড় শুরু করেছে। তবে হর্মুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বিকল্প খুঁজে পাওয়া এই মুহূর্তে চাট্টিখানি কথা নয়। বিড়লা-রাজের আভিজাত্য যেমন স্থিরতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, দেশের অর্থনীতিকেও সেই স্থিতাবস্থায় রাখতে এখন আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে আরব দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আপৎকালীন প্রয়োজনে দেশের কৌশলগত তেল ভাণ্ডার ব্যবহারের পরিকল্পনাও রাখা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তার আঁচ পৌঁছনো এখন সময়ের অপেক্ষা। চৈত্র শেষের তপ্ত দিনে যখন চারদিকে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তুঙ্গে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি ভারতের জ্বালানি বাজারে কতটা অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়, এখন সেটাই দেখার। আপাতত হর্মুজ প্রণালীর প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে সাউথ ব্লক।
ইরান চলমান যুদ্ধের মাঝে ৫টি দেশকে স্ট্রেট অফ হরমুজ থেকে নিরাপদ পথ দেওয়ার কথা বলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচী জানিয়েছিলেন যে স্ট্রেট অফ হরমুজ সম্পূর্ণ বন্ধ নয় এবং ভারতসহ কিছু বন্ধু দেশের জাহাজগুলোকে নিরাপদ পথ দেওয়া হবে। ইরান ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তানের জাহাজগুলোকে স্ট্রেট অফ হরমুজ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।