ভারতে দামি হতে পারে এই জিনিসগুলিওদ্বাদশ দিনে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের এই যুদ্ধের জেরে প্রায় থমকে যেতে বসেছে গোটা বিশ্ব। কারণ, গ্যাস তেলের জোগান দেওয়া হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করা ইরান আটকে দিয়েছে প্রণালীটি। ফলে বিশ্ব ভুগছে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায়। তবে এটা বিপদের শুরু মাত্র। ভারতের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তেল বা গ্যাস নয়, বরং এমন অনেক সামগ্রী আছে যা হরমুজ হয়েই ভারতে পৌঁছায়।
ব্রোকারেজ ফার্ম জেফরিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে বিবিসি-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে পৌঁছায়। মূলত ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও কুয়েতের মতো দেশ থেকে নেওয়া অশোধিত তেলই হরমুজ হয়ে দেশে নিয়ে আসে নয়াদিল্লি।
যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হতে থাকে, তাহলে এর প্রভাব দ্রুত জ্বালানি বাজার ছাড়িয়ে সার সরবরাহ, উৎপাদন উপকরণ, নির্মাণ সামগ্রী, অ্যাসফল্ট, রাসায়নিক এবং হীরা উৎপাদনের মতো শিল্পগুলিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২০২৫ সালে ভারত এই মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সার ও পেট্রোকেমিক্যাল থেকে শুরু করে শিল্প খনিজ, কৃষিজাত দ্রব্য, প্লাস্টিক, উৎপাদন শিল্পের যন্ত্রপাতি এবং হীরা কাটার সরঞ্জাম।
এছাড়াও, ভারত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে রিয়েল এস্টেট এবং রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, অ্যাসফল্ট, বিল্ডিং উপকরণ এবং পেট্রোকেমিক্যাল আমদানি করে। এই পণ্য বহনকারী জাহাজগুলি হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতে পৌঁছায়। তাই এই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শুধুমাত্র তেল বা গ্যাসের উপর প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কৃষি, রাস্তা নির্মাণ, উৎপাদন খাত এবং রিয়েল এস্টেটের উপরও প্রভাব পড়বে। সরাসরি এই সব খাতের সঙ্গে যুক্ত নানা জিনিসের দাম বাড়তে পারে। যা প্রভাব ফেলবে আমজনতার পকেটেও।