বালেন শাহর বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেপালের মানুষ ভারতে এসে প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন মুদিখানা, ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম, সব্জি ইত্যাদি কিনে নিয়ে যায়। দশকের পর দশক ধরে এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু বালেন শাহ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিপাকে নেপালের মানুষ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। কারণ তাঁদের ভারতের উপরই নির্ভর করে থাকতে হয় বাজারের জন্য। অথচ বালেন শাহ সরকার নিয়ম করেছে, এবার ভারত থেকে কোনও জিনিস নিয়ে গেলেই সরকারকে শুল্ক দিতে হবে।
বালেন শাহর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্দোলন-প্রতিবাদ দানা বেঁধেছে। কাঠমাণ্ডু- সহ নেপালের একাধিক শহরে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, এমন কোনও শুল্ক নেওয়া চলবে না।
নেপালের মানুষের কাছে ভারতীয় পণ্য তুলনায় সস্তা। সেজন্য তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে এখানে এসে জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যান। তবে বাীলেন শাহ জানিয়েছে, ভারত থেকে ১০০ নেপালি রুপি (প্রায় ৬৩ ভারতীয় টাকা) মূল্যের বেশি পণ্য আনলেই বাধ্যতামূলকভাবে শুল্ক দিতে হবে। এই শুল্কের হার ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেদেশের বাসিন্দাদের একটা অংশ জানাচ্ছে, এতে তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমবে। বেশি দামে জিনিস কিনতে হবে।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নেপালে যে সব আচার-অনুষ্ঠান হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস আমরা ভারত থেকে নিয়ে আসি। নেপাল সরকার সময়মতো যে সার দিতে পারে না, সেটাও ভারত থেকে আনি। এখন পরিস্থিতি পুরো বদলে গেছে। এটা একপ্রকার অঘোষিত অবরোধ।'
ইতিমধ্যেই এমন ভিডিও সামনে এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা ও কাস্টমস কর্মীদের সঙ্গে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে নেপালের মানুষ।
তবে শুধু এই আন্দোলনই নয়, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে পথে নেমেছে ছাত্ররাও। সরকারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করা হবে। তারই প্রতিবাদে নেমেছে ছাত্রদের একাংশ। এই নিয়ে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপও করছেন বালেন শাহ।
রাষ্ট্রীয় একতা দলের চেয়ারম্যান বিনয় যাদব নেপাল সরকারের এই পদক্ষেপকে অঘোষিত অবরোধ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত ১৯৫০ সালের India-Nepal Peace and Friendship Treaty 1950-এর পরিপন্থী। সরকারকে অবিলম্বে গৃহস্থালির পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক সীমা তুলে নিতে হবে।'
তবে এই সিদ্ধান্তের জেরে নেপালে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, অতীতে এই ধরনের ইস্যু ঘিরে সহিংস বিক্ষোভের জেরে কেপি শর্মার ওলি সরকারও ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল।
বালেন শাহকে নিজের দলেও সমালোচিত হতে হয়েছে। দলের নেতা রাজীব ঝা এই সিদ্ধান্তকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, 'বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সময়ে ১০০ নেপালি রুপির সীমা অত্যন্ত কম এবং অযৌক্তিক।'