গুলবুদ্দিন হিকমতয়ারতার পরিচয় 'কাবুলের কসাই' নামে। সেই গুলবুদ্দিন হিকমতয়ার (Gulbuddin Hekmatyar) ভারতকে হুঁশিয়ারি দিলেন। আফগনিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং হিজব-ই-ইসলামি পার্টির প্রধান গুলবুদ্দিন হিকমতয়ার শরণার্থী ইস্যুতে ভারতকে 'পরামর্শ' দিয়েছেন।
কী জানাচ্ছেন তিনি?
আগের আফগান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় সেটি। মানে আগের সরকারের সময়কার বাসিন্দাদের শরণ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি (Gulbuddin Hekmatyar)। তিনি জানিয়েছেন, ভারত যদি এমন করে, তা হলে তালিবানও জবাব দেবে। তালিবানদের সময়ে তিনি বেশ শক্তিশালী বলেই পরিচিতি ছিলেন।
কাশ্মীর নিয়ে হুমকি
গুলবুদ্দিন হিকমতয়ার এক টিভি চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ভারত তালিবানের বিরোধীদের আশ্রয় দিলে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তাদের তা না করাই উচিত। ভারত তালিবান সরকারের বিরোধীদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের তালিবান-বিরোধী কাজকর্ম করতে দিলে, তালিবানও তেমন কাজ করতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, আফগানিস্তান এবং তার শাসক তালিবান কাশ্মীর নিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তারা এ ব্যাপারে আগ্রহী নয়। ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের মাটি ব্যবহার করা সহজ হবে।
ঐতিহাসিক ভুল শোধরাক ভারত
ওই ইন্টারভিউয়ে তিনি আরও বলেন, আমি এ কথা মনে করিয় দিতে তাই, আফগানিস্তানের মাটির ব্যবহার দূরের প্রতিবেশীর বদলে কাছের প্রতিবেশির বিরুদ্ধে বেশি কাজে লাগানো যেতে পারে। ভারতকে এমন আশঙ্কা না করলেও চলবে।
তিনি বলেন, ভারতকে আফগানিস্তানের বিফল নীতির ব্য়াপারে ফের ভাবনাচিন্তা করা দরকার। আর যারা কব্জা করে রেখেছিল (সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আমেরিকা) তাদের সমর্থন করার মতো ঐতিহাসিক ভুল করা ঠিক নয়।
কাবুল দখল
১৫ আগস্ট কাবুল দখল করেছিল তালিবান। বড়সড় কোন গোলমাল ছাড়াই সে কাজ সেরে ফেলেছিল তারা। তবে তারপর অনেক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করার পর থেকেই নড়েচড়ে বসে তালিবান। সেখানে দু'দশক আমেরিকার সেনা ছিল।
তালিবানের প্রতিশ্রুতি
আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর তালিবান আশ্বাস দিয়েছিল, সেখানে শান্তি বজায় রাখা হবে। সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এবার তারা সরকার গড়তে চলেছে। বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে আফগানিস্তানকে। আর্থিক সমস্যায় পড়তে হবে তাদের। তেমন হলে আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।
আর কী জানাচ্ছে তালিবান?
তালিবানদের অন্যতম শীর্ষনেতা মোল্লা খেরুল্লাহা খানখাহ জানান, তাঁরা আফগানিস্তানের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সেই ঘোষণ করে দিয়েছেন। তাই কারও ভয় পাওয়ার দরকার নেই।
অন্য এক শীর্ষ নেতা জানাচ্ছেন
তালিবানের আর এক শীর্ষ নেতা আবদুল সালাম হনফি বলেন, আমরা আফগানিস্তানের সব মানুষকে ভরসা দিতে চাই। কারও কোনও ক্ষতি হবে না। সব মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। আর তাঁদর সব রকমের সুবিধা দেওয়া হবে।
আবদুল সালাম হনফি আরও জানান, তারা দুনিয়ার সবাইকে জানাতে চান, এখাকার নাগরিকেরা সুরক্ষিত থাকবেন। কোনও দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের দেশের জমি ব্যবহার করা হবে না। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে তলা হবে।
দিন কয়েক আগেকার দৃশ্য। যা কাঁপিয়ে তুলেছিল সারা দুনিয়াকে। বিমান থেকে ঝুলছে দু'জন। আর একটু পরেই তারা পড়ে যাবে। নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য তারা। কারণ দেশ চলে গিয়েছে তালিবানদের হাতে। তাদের স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকবে না। তাই তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে পড়েছিলেন চলন্ত বিমানে।