Countries With Most Snake Species: বিশ্বের সবথেকে বেশি সাপের আড্ডা কোন ১০ দেশে, তালিকায় ভারতের স্থান কত জানেন?

Countries With Most Snake Species: পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৬০০ প্রজাতির বিষ থাকলেও মাত্র ২০০ প্রজাতি মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। সাপের সঠিক সংখ্যা গণনা দুঃসাধ্য হলেও বিজ্ঞানীরা ‘প্রজাতি’ বা ভ্যারাইটির নিরিখে বিশ্বজুড়ে সর্প-মানচিত্র তৈরি করেছেন।

Advertisement
বিশ্বের সবথেকে বেশি সাপের আড্ডা কোন ১০ দেশে, তালিকায় ভারতের স্থান কত জানেন?Countries With Most Snake Species: বিশ্বের সবথেকে বেশি সাপের আড্ডা কোন ১০ দেশ, তালিকায় ভারতের স্থান কত জানেন?

Countries With Most Snake Species: পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রায় সাড় তিন হাজারেরও বেশি প্রজাতির সাপ। হিমশীতল বরফ আর জনহীন দ্বীপ বাদে প্রকৃতির প্রায় সব কোণেই এদের অবাধ বিচরণ। তবে সব সাপই যে মারণ বিষ বহন করে, তা নয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৬০০ প্রজাতির বিষ থাকলেও মাত্র ২০০ প্রজাতি মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। সাপের সঠিক সংখ্যা গণনা দুঃসাধ্য হলেও বিজ্ঞানীরা ‘প্রজাতি’ বা ভ্যারাইটির নিরিখে বিশ্বজুড়ে সর্প-মানচিত্র তৈরি করেছেন।

চ্যাম্পিয়ন লাতিন 
সাপের বৈচিত্র্যের নিরিখে বিশ্বের দরবারে পয়লা নম্বরে রয়েছে মেক্সিকো। মরুভূমি থেকে সমুদ্রতট, প্রায় ৪৩৮ প্রজাতির সাপের আদর্শ বাসস্থান এই দেশ। র্টলস্নেক থেকে ভাইপারের দাপট এখানে সবথেকে বেশি। এর ঠিক পরেই রয়েছে আমাজনের দেশ ব্রাজিল। প্রায় ৪২০টি প্রজাতি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই দেশে অ্যানাকোন্ডা ও বোয়া কনস্ট্রিক্টরের মতো দানবীয় সাপের দেখা মেলে। মূলত আমাজনের গহীন অরণ্যই এদের বংশবৃদ্ধির প্রধান চাবিকাঠি।

তালিকায় ভারত ও প্রতিবেশী দেশসমূহ
এশিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ৩৭৬টি প্রজাতি নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও ভারত খুব একটা পিছিয়ে নেই। ৩০৫টি প্রজাতি নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আমাদের দেশ। হিমালয় থেকে মরুভূমি, ভারতের বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে কোবরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া ও শঙ্খচূড়ের মতো বিষধরদের বাস। তবে সচেতনতার অভাবে ভারতে সাপে কামড়ানোর ঘটনাও বেশ উদ্বেগের। তালিকার পরের দিকে রয়েছে কলম্বিয়া (৩০১), চিন (২৪৬) ও ইকুয়েডর (২৪১), যেখানে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সরীসৃপ বৈচিত্র্য নজরকাড়া।

ভিয়েতনাম-অস্ট্রেলিয়ার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াতেও সাপের দাপট যথেষ্ট। ভিয়েতনামে ২২৬টি ও মালয়েশিয়ায় ২১৬টি প্রজাতির বাস। তবে তালিকার দশম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া (২১৫) সবথেকে বেশি রোমাঞ্চকর। প্রজাতি সংখ্যায় দশ নম্বরে হলেও, বিশ্বের সবথেকে খতরনাক বিষধরদের অধিকাংশেরই ঠিকানা এই দেশ। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অস্ট্রেলিয়ার সাপগুলির বিবর্তন হয়েছে এক অনন্য পদ্ধতিতে, যা গবেষকদের কাছে আজও বিস্ময়।

বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও সাবধানতা
সাপ মানেই আতঙ্ক নয়, বরং এরা প্রকৃতির পরম বন্ধু। ইঁদুর বা ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে এই সরীসৃপরাই। সাধারণত উসকানি না দিলে এরা আক্রমণ করে না। তবে ট্রেকিং বা জঙ্গলে ঘোরার সময় সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। গামবুট পরা বা রাতে আলো ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট পদক্ষেপ প্রাণ বাঁচাতে পারে। মনে রাখবেন, সর্পদংশন হলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁক নয়, একমাত্র ভরসা দ্রুত চিকিৎসা ও অ্যান্টি-ভেনাম।

Advertisement

যেখানে সাপের দেখা মেলাই ভার
অবাক করা বিষয় হলো, বিশ্বের সব দেশে কিন্তু সাপের দেখা মেলে না। আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো কার্যত সর্পহীন। তীব্র শীতল জলবায়ু এবং মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এই দেশগুলিতে সাপ বংশবিস্তার করতে পারেনি। তাই যাঁরা সাপকে যমের মতো ভয় পান, তাঁদের জন্য এই দেশগুলো হতে পারে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র।

 

POST A COMMENT
Advertisement