
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ঘিরে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করতে চাইল কেন্দ্র। সরকারের বক্তব্য, এই শুল্কের ফলে ভারতের ওপর সামগ্রিক প্রভাব খুবই সীমিত হবে।
কেন্দ্রের মতে, ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ছোট এবং বৈচিত্র্যময় হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে বড় কোনও ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা নেই। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানি মূল্য ছিল আনুমানিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ইরানের সামগ্রিক আমদানি ঝুড়িতে ভারতের অংশ খুবই সামান্য।
ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদারদের তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (২১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ শতাংশ), চিন (১৭ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ শতাংশ), তুরস্ক (১১ বিলিয়ন ডলার বা ১৬ শতাংশ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (৬ বিলিয়ন ডলার বা ৯ শতাংশ)। এই তুলনায় ভারতের অবস্থান প্রান্তিক বলেই মনে করছে সরকার।
সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপর আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘোষণার পর ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে অনেকেই এখন সতর্ক হয়ে পড়ছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানি সংস্থার বাল্ক রপ্তানি প্রধান বলেন, 'ট্রাম্পের এই শুল্ক কাঠামো ভারতীয় বাসমতি চাল রফতানির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।' উল্লেখ্য, ভারত ইরানের সবচেয়ে বড় চাল সরবরাহকারী দেশ। ইরানের আমদানিকৃত মোট চালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসে ভারত থেকে।
একজন নয়াদিল্লিভিত্তিক রফতানিকারক জানান, গত দুই মাসে পাঠানো চালের অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁর কথায়, 'কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তারা পুরো চালান পাননি। আবার কোথাও চলমান বিক্ষোভের কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন।'
অন্যদিকে, চিন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবেই রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানি পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ইরানের মোট তেল রফতানি ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চিন।