পরের সপ্তাহেই ইরানে হামলা?আবার যুদ্ধ। ফের ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সেই মতো নতুন নতুন টার্গেটও ঠিক করে ফেলেছে দুই দেশ বলে খবর।
সিএনএন-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানে আবার নতুন করে হামলা চালানোর চিন্তাভাবনা করছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের সেনা এবং আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড এমার্জেন্সি বৈঠকও করেছে। সেখানেই ইরানের কোন কোন লক্ষ্যে আঘাত হানা হবে, সেটা ঠিক করা হয়েছে বলে খবর।
কবে হতে পারে আক্রমণ?
যতদূর জানা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি ইরানে হামলা চালাতে পারে এই দুই শক্তিধর দেশ। হয়তো পরের সপ্তাহেই হতে পারে হামলা।
মাথায় রাখতে হবে, আপাতত বন্ধ রয়েছে ইরান যুদ্ধ। ৮ এপ্রিল থেকে চলছে যুদ্ধবিরতি। তারপর একাধিকবার চুক্তির চেষ্টা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু তার বাস্তব রূপায়ন ঘটেনি। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে শান্তি সমঝোতার চেষ্টা প্রায় শেষের মুখে। পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় যেই ডিলের চেষ্টা হয়েছিল, সেটা ফেল করেছে। ইরানের দাবি, হরমুজে পূর্ণ কর্তৃত্ব। আর সেই দাবি নাকোচ করেছেন ট্রাম্প। তারপরই নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি।
যুদ্ধ করতে চাইছে ইজরায়েল
ইজরায়েলের সংবাদ সংস্থার কানের মতে, যুদ্ধ শুরু করতে আমেরিকাকে বারবার চাপ দিচ্ছে তেল আবিব। ইজরায়েলের মতে, প্রথম দফার যুদ্ধ অহেতুক তাড়াতাড়ি থামনো হয়েছে। তারা চায় ইরানের নিউক্লিয়াল ফেসিলিটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে। এমনকী তেহরানের মিসাইল সিস্টেমও ধ্বংস করার পক্ষপাতী তারা।
কোথায় কোথায় হতে পারে আঘাত?
একটি লিস্ট ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। ইজরায়েল এবং আমেরিকা মিলে তৈরি করেছে এই তালিকা। সেখানে হিট লিস্টে রয়েছে ইরানের নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি, মিসাইল ফ্যাক্টরি, মিলিটারি বেস এবং কম্যান্ড সেক্টর। এই দুই দেশ বিশ্বাস করে, যদি এখন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাতে ওই এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
মাথায় রাখতে হবে। এই যুদ্ধের পর থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। এখান থেকেই বিশ্বের দৈনিক চাহিদার একটা বড় অংশের তেল যায়। আর আবার যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ফের ব্যাহত হতে পারে তেল এবং গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা। যার জেরে তেল এবং গ্যাসের দাম বিরাট বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও কোনওপক্ষই যুদ্ধ নিয়ে এখনও কোনও কিছু সরকারিভাবে কিছুই জানায়নি। তবে সেনার প্রস্তুতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ইজরায়েল এবং আমেরিকা চাইছে ইরানকে বড় আঘাত দিতে। যার ফলে যুদ্ধের একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।