ডোনাল্ড ট্রাম্পআমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ আবার ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বড়সড় হুমকি দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, ইরান কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। সেটা তিনি করতে দেবেন না। ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে সারা পৃথিবীর জন্য 'থ্রেট' হতে পারে বলে মনে করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, 'ইরানকে পরমাণু অস্ত্র দেওয়া যাবে না। কারণ, এই অস্ত্র তারা প্রথমেই ইজরায়েলের উপর ব্যবহার করবে। তারপর মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের উপর করবে ব্যবহার। এরপর আমাদের উপর ব্যবহার করা হবে। আমরা এমন পাগলদের হাতে পরমাণু অস্ত্র তুলে দিতে পারি না।'
আর ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই পরিষ্কার হয়ে গেল, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এখনও আগের অবস্থানেই রয়েছে আমেরিকা। তারা সেখান থেকে একচুলও নড়ছে না। অর্থাৎ ইরানের হাতে আপাতত পরমাণু অস্ত্র উঠছে না।
মাথায় রাখতে হবে, এর আগেও পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্ততার প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে আমেরিকা। তারা জানিয়ে দিয়েছিল যে, ইরান এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যেগুলি মেনে নেওয়া সম্ভবই নয়। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, 'তারা একটা চুক্তির কথা বলছে। তবে আমি সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট নই।'
পরমাণু নিয়ে কোনও শর্ত নয়
ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও মতেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না আমেরিকা। সেই মতো ইতিমধ্যেই মার্কিন দেশের অত্যন্ত শক্তিশালী বোমারু বিমান বি ২ বোম্বার ইরানের পরমাণু 'ব্যাকবোন' ভেঙে দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ইরানের এখন কোনও নৌসেনা নেই। নেই কোনও বিমান বাহিনী। এমনকী তেহরানের ব়্যাডার সিস্টেমও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে বড় দাবি করলেন তিনি।
ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন ট্রাম্প?
এই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, 'মানবিকতার খাতিরে আমি এই কাজটা করতে চাই না। কিন্তু কোনও চুক্তি না হলে সমস্যাকে মূল থেকেই উপড়ে ফেলা হবে।'
এখানেই শেষ না করে ইরানের নেতাদের 'শয়তান' বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই সপ্তাহে তেহরানের সরকার ৪২,০০০ প্রতিবাদীকে হত্যা করেছে।
হরমুজ জটিলতা কাটছে না
হরমুজ নিয়ে জটিলতার শেষ নেই। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল এই যুদ্ধ। তখন থেকেই ইরান বন্ধ করে রেখেছে এই প্রণালী। এখন আবার তেহরানকে পাল্টা দিতে ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ গড়ে তুলেছে আমেরিরা। যার ফলে প্রায় সারা বিশ্বেই তেল এবং গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। মাথায় রাখতে হবে, হরমুজ থেকে গোটা পৃথিবীর এনার্জি চাহিদার ২০ শতাংশ আসে। আর সেই প্রণালী বন্ধ থাকায় বিপদ বাড়ছে। হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। এমনকী গ্যাসের দামেও আগুন। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কবে শান্ত হয়।