Trump China visit: চিনের একটিও উপহার নিলেন না ট্রাম্প! বিমানে ওঠার আগেই ফেলা হল ডাস্টবিনে

চিন সফর শেষে বেজিং ছাড়ার আগে নজিরবিহীন সতর্কতা নিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতিনিধি দল। বিমানে ওঠার আগে চিনা আধিকারিকদের দেওয়া সমস্ত উপহার, ব্যাজ, ফোন, আমন্ত্রণপত্র এবং স্মারক ফেলে দেওয়া হল ডাস্টবিনে।

Advertisement
চিনের একটিও উপহার নিলেন না ট্রাম্প! বিমানে ওঠার আগেই ফেলা হল ডাস্টবিনে চিনের একটিও উপহার নিয়ে ফিরলেন না ট্রাম্প।
হাইলাইটস
  • নজিরবিহীন সতর্কতা নিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতিনিধি দল।
  • উপহার, ব্যাজ, ফোন, আমন্ত্রণপত্র এবং স্মারক ফেলে দেওয়া হল ডাস্টবিনে।
  • এয়ার ফোর্স ওয়ানে কোনও ‘চিনা’ জিনিস নিয়ে ওঠারও অনুমতি ছিল না বলে জানা গিয়েছে। 

চিন সফর শেষে বেজিং ছাড়ার আগে নজিরবিহীন সতর্কতা নিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতিনিধি দল। বিমানে ওঠার আগে চিনা আধিকারিকদের দেওয়া সমস্ত উপহার, ব্যাজ, ফোন, আমন্ত্রণপত্র এবং স্মারক ফেলে দেওয়া হল ডাস্টবিনে। এমনকি এয়ার ফোর্স ওয়ানে কোনও ‘চিনা’ জিনিস নিয়ে ওঠারও অনুমতি ছিল না বলে জানা গিয়েছে।  আমেরিকা-চিন গুপ্তচরবৃত্তির ভয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

বাণিজ্য এবং রেয়ার আর্থ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আশায় বেজিং গিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সয়াবিন এবং বোয়িং বিমান সংক্রান্ত কিছু সমঝোতা ছাড়া বড় কোনও সাফল্য মেলেনি। তবে সফরের শেষে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন সতর্কতা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, হোয়াইট হাউস এবং সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশ ছিল একেবারে স্পষ্ট; চিনে পাওয়া কোনও জিনিস বিমানে তোলা যাবে না। ফলে সফরের সময় পাওয়া সমস্ত সামগ্রী বিমানবন্দরের সিঁড়ির নীচে রাখা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়।

কী কী ফেলা হয়েছিল?
জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যদের দেওয়া ল্যাপেল ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র, স্মারক সামগ্রী এবং ‘বার্নার ফোন’(সাময়িক ব্যবহারের জন্য দেওয়া ফোন) পর্যন্ত ফেলে দেওয়া হয়। মার্কিন সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউস কর্মীরাও এই নিয়মের আওতায় ছিলেন।

এমিলি গুডিন, যিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা, সমাজমাধ্যমে লেখেন, “চিনা আধিকারিকেরা যা যা দিয়েছিলেন, সব সংগ্রহ করে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। চিন থেকে কোনও জিনিস বিমানে তোলা হয়নি।”

কেন এত সতর্কতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার নিরাপত্তা এবং গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে সন্দেহ ও উত্তেজনা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, উপহার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে নজরদারির চেষ্টা হতে পারে।

ট্রাম্প নিজেও সাংবাদিকদের বলেন, “আমরাও ওদের উপর প্রচুর নজরদারি চালাই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুর্গেন নওডিট মজা করে মন্তব্য করেন, “চিনই একমাত্র দেশ, যেখান থেকে ট্রাম্প কোনও উপহার বা ঘুষ নিতেন না।”

Advertisement

ব্যক্তিগত ফোনও নিয়ে যাননি ট্রাম্প
জানা গিয়েছে, চিন সফরে যাওয়ার আগে ট্রাম্প এবং তাঁর প্রতিনিধি দল নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস আমেরিকাতেই রেখে গিয়েছিলেন। সফরে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশেষ ‘বার্নার ফোন’ এবং অস্থায়ী ইমেল।

এই ফোনগুলিতে ন্যূনতম তথ্য রাখা হয় এবং হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। মোবাইলগুলি রাখা হয়েছিল ফ্যারাডে ব্যাগে, যা GPS, Wi-Fi, Bluetooth এবং অন্যান্য সিগন্যাল ব্লক করতে সক্ষম।

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ইলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াং-এর মতো শিল্পপতিরাও।

সফরে উত্তেজনা 
দু’দিনের সফরে ট্রাম্প এবং শি জিনপিং প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেও পর্দার আড়ালে নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটে বলে দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের।

এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, চিনা আধিকারিকদের সঙ্গে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের বচসা এমনকি ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এক মার্কিন নিরাপত্তা আধিকারিককে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের কারণে নির্দিষ্ট এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

এ ছাড়া ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে এক হোয়াইট হাউস কর্মী চিনা সাংবাদিকদের ভিড়ে পড়ে গিয়ে আহত হন বলেও দাবি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম চিন সফর কূটনৈতিক দিক থেকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, নিরাপত্তা এবং গুপ্তচর আতঙ্কের কারণেও ততটাই আলোচনায় উঠে এসেছে। 

POST A COMMENT
Advertisement