USA China Friendship: হঠাৎ চিনের বন্ধু আমেরিকা! হোয়াইট হাউজে আসবেন জিনপিং, ট্রাম্পের মতলবটা কী?

এক সময় আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে কথা উঠলেই বারবার চিনের বাপ-বাপান্ত করতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের প্রচার থেকে শুরু করে প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনও চিনের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া মন্তব্য করেছেন।

Advertisement
হঠাৎ চিনের বন্ধু আমেরিকা! হোয়াইট হাউজে আসবেন জিনপিং, ট্রাম্পের মতলবটা কী?হঠাৎ বন্ধু চিন-আমেরিকা।
হাইলাইটস
  • এক সময় আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে কথা উঠলেই বারবার চিনের বাপ-বাপান্ত করতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • তাঁর অভিযোগ ছিল, চিনের জন্য আমেরিকায় কারখানা বন্ধ হচ্ছে।

এক সময় আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে কথা উঠলেই বারবার চিনের বাপ-বাপান্ত করতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ ছিল, চিনের জন্য আমেরিকায় কারখানা বন্ধ হচ্ছে। চাকরি নেই। দুর্বল হচ্ছে মার্কিন মধ্যবিত্ত।

কিন্তু সেই ট্রাম্পের সুর এখন অনেকটাই বদলেছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন বেশ ভাল। নিজেই সে কথা শেয়ার করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শি-র বৈঠক হওয়ার কথা। বেশ আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা এবং নৈশভোজেরও আয়োজন করা হচ্ছে।

এত বদল?
চিন নিয়ে ট্রাম্প আগে বেশ চটে থাকতেন
ট্রাম্পের রাজনীতিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নিশানা ছিল চিন। আমেরিকার বাজারে চিনা পণ্যের প্রবেশ, বাণিজ্য ঘাটতি এবং মার্কিন শিল্পে চিনের প্রভাবের তীব্র সমালোচক ছিলেন।

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেও চিনের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। শুল্ক চাপানো হয়। চিনা প্রযুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়। লক্ষ্য ছিল, বেজিংকে তার অর্থনৈতিক নীতি বদলাতে বাধ্য করা।

কিন্তু চিনও পাল্টা চাপ তৈরি করে।

চিনের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র রয়েছে
চিন শুধু বিপুল পরিমাণ পণ্য তৈরি করে না। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ‘রেয়ার আর্থ’ সরবরাহের ক্ষেত্রেও দেশটির বড় ভূমিকা রয়েছে। মোবাইল, ইলেকট্রিক গাড়ি, ব্যাটারি থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে এই উপাদানগুলির প্রয়োজন হয়।

ফলে চিনের উপর চাপ তৈরি করতে গিয়ে আমেরিকাকেও কিছু ক্ষেত্রে বেজিংয়ের উপর নির্ভরতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে।

এই কারণেই বাণিজ্য যুদ্ধ ধীরে ধীরে আলোচনার দিকে গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সমঝোতা নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। রেয়ার আর্থ, শুল্ক এবং চিন থেকে আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

শুধু শুল্ক দিয়েই কি চিনকে থামানো সম্ভব?
ট্রাম্পের চিন নীতির বড় অংশ ছিল শুল্ক। কিন্তু শুল্ক চাপালেই চিনের উৎপাদন ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়নি।

Advertisement

ইলেকট্রিক গাড়ি, ব্যাটারি এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চিন এখনও বড় শক্তি। চিনা সংস্থাগুলি বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পণ্য বিক্রি করছে। ফলে আমেরিকা-চিনের বাণিজ্যে কিছু পরিবর্তন এলেও চিনের শিল্প ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন হয়নি।

এখানেই ট্রাম্পের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। যে দেশকে প্রতিযোগিতায় পিছনে ফেলতে চাইছে আমেরিকা, সেই দেশের সঙ্গেই আবার আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে।

আমেরিকা এবং চিনের প্রতিযোগিতা এখন অনেক বড়। রেয়ার আর্থের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সেমিকন্ডাক্টর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে চাপানউতোর রয়েছে।

এআই নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। রবিবারই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চিনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে এআই নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠককে ট্রাম্প-শি বৈঠকের প্রস্তুতি হিসাবেও দেখা হচ্ছে।  

POST A COMMENT
Advertisement