Strait of Hormuz: সুখবর! আরও ২টি LPG বোঝাই জাহাজ পেরতে চলেছে হরমুজ, ভারতের দুনিয়াদারি

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইরান হরমুজ প্রণালী পেরনো যেকোনও জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান।  শত শত জাহাজ আর সামনে এগোতে না চেয়ে সেখানেই নোঙর করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটিও বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর অর্থ হল, পথটি কার্যত বন্ধ।

Advertisement
সুখবর! আরও ২টি LPG বোঝাই জাহাজ পেরতে চলেছে হরমুজ, ভারতের দুনিয়াদারিহরমুজ প্রণালী
হাইলাইটস
  • ভারতের কী অবস্থা?
  • মোদী সরকার কী করছে?
  • আসল সমস্যাটা কী?

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সমুদ্রপথে প্রবাহিত হয়, এবং এর জন্য মাত্র একটি পথ রয়েছে, তা হল হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ জলপথটি ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত। এর একপাশে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ইরাক। তাদের তেল বাইরে প্রবাহিত হওয়ার জন্য এটিই একমাত্র সমুদ্রপথ। এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে? বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে। আর ভারতের মতো দেশগুলি, যারা তাদের তেলের চাহিদার সিংহভাগ আমদানি করে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইরান হরমুজ প্রণালী পেরনো যেকোনও জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান।  শত শত জাহাজ আর সামনে এগোতে না চেয়ে সেখানেই নোঙর করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটিও বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর অর্থ হল, পথটি কার্যত বন্ধ।

ভারতের কী অবস্থা?

বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ গাল্ফে আটকা পড়েছে, যেগুলি সামনে এগোতে বা ফিরতে পারছে না। এই জাহাজগুলির মধ্যে দুটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে, আইওসি (ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন)-এর ভাড়া করা ‘পাইন গ্যাস’ এবং বিপিসিএল-এর ভাড়া করা ‘জাগ বসন্ত’। দুটিই এলপিজি ট্যাঙ্কার, অর্থাৎ এগুলি ভারতীয় বাড়িগুলির জন্য রান্নার গ্যাসের মতো জ্বালানি বহন করছে। জাহাজ দুটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করা আছে। জানা গেছে, জাহাজ দুটি শনিবার রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মোদী সরকার কী করছে?

ভারত সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভারত চায় তার জাহাজগুলি যেন নিরাপদে ও কোনও বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই জাহাজগুলির নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। এটি কূটনীতির একটি খেলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী ইরানকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ভারতীয় জাহাজগুলিকে যেতে দেওয়া উচিত।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরান দুটি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর অর্থ হল, ইরান ভারতকে একটি ছোট ছাড় দিয়েছে। এটি বোধগম্য, কারণ ভারত ও ইরানের মধ্যে আগে থেকেই ভাল সম্পর্ক রয়েছে এবং ভারত এই সংঘাতে বরাবরই কোনও পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

এই ঘটনায় আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। তথ্য থেকে দেখা যায়, পাকিস্তানগামী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। এটি বেছে বেছে কিছু নির্দিষ্ট দেশকে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে। যাদের সঙ্গে ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে, অথবা যারা তার জন্য উপকারী, তারাই যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছে। এটা এক ধরনের জবরদস্তির কৌশল। ইরান বলছে, "দেখুন, আমি সবাইকে থামাতে পারি, আবার যাকে ইচ্ছা ছেড়েও দিতে পারি।"

আসল সমস্যাটা কী?

এটা শুধু কয়েকটি জাহাজের গল্প নয়। এটি ভারতের রান্নার গ্যাস, পেট্রোল এবং ডিজেল বহনকারী পথটির গল্প। এই পথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ভারত গ্যাস ও তেলের সঙ্কটের সম্মুখীন হতে পারে। দাম বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে প্রভাব ফেলবে।

POST A COMMENT
Advertisement