আমেরিকার পর এবার ভারতের অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে ইউএই, আলোচনায় ব্রহ্মোস।ভারতের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। সূত্রের খবর, ভারতের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস এবং স্বয়ংক্রিয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম 'আকাশতীর' কিনতে পারে UAE। সে বিষয়ে নয়াদিল্লি ও আবু ধাবির মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি খাতে বিরাট সাফল্য আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে ইউএই। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তার মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি আনতে করতে চাইছে সেদেশ। সেই লক্ষ্যেই ভারতের একাধিক ডিফেন্স প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আবু ধাবি।
সূত্রের খবর, তাদের প্রথম পছন্দ 'আকাশতীর'। এটি ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এয়ার ডিফেন্স কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম। যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সেন্সর ও অস্ত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত শত্রু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারে এই সিস্টেম। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউএই।
কেন ভারতের অস্ত্র কিনতে আগ্রহী UAE?
ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও কিছুটা চাপে। বিশেষত হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ইউএই-র কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের বড় অংশের জ্বালানি রফতানি এই জলপথের উপরই নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে UAE আমেরিকা ও ইউরোপের উপরেই নির্ভরশীল ছিল। তবে এখন তারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কালেকশান একটু ডাইভার্সিফাই করতে চাইছে। চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইউএই।
ব্রহ্মোস
ব্রহ্মোস ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। স্থল, জল এবং আকাশ; তিন স্থান থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। এক্সপোর্ট ভার্সানের রেঞ্জ প্রায় ২৯০ কিলোমিটার।
তবে ব্রহ্মোস রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি। তাই ইউএই-কে রফতানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যদিও সূত্রের দাবি, মস্কো ও আবু ধাবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তাই সেই অনুমতি পেতে সমস্যা হবে না।
গত কয়েক বছরে বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও ইউএই-র পারস্পরিক চুক্তি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু অস্ত্র বিক্রির বিষয় নয়। এর পিছনে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব ও ইউএই-র প্রতিযোগিতার আবহে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আবু ধাবির জন্যও স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।