ukraine robotic army: রোবোসেনা দিয়েই মাত দিচ্ছে রাশিয়াRussia-Ukraine Drone Warfare News: আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা কি তবে আমূল বদলে গেল? রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দান অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। যেখানে সাবেকি কামানের গর্জন আর রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষই ছিল দস্তুর, সেখানে এখন জায়গা করে নিচ্ছে নিঃশব্দ ঘাতক— রোবট। ইউক্রেনীয় সেনার ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে আসা এই যান্ত্রিক যোদ্ধাদের নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চর্চা তুঙ্গে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্পষ্ট কথা, ‘রোবটকে ধ্বংস করা যায় ঠিকই, কিন্তু তার শরীর থেকে মানুষের মতো রক্ত ঝরে না।’ বিজ্ঞানের এই চরম প্রয়োগই এখন কিয়েভের প্রধান রক্ষাকবচ।
রাশিয়ার মতো বিশাল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে ইউক্রেনের তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং নিত্যনতুন ‘এক্সপেরিমেন্ট’। ল্যাবে তৈরি খুদে ড্রোন থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক যান, সবই এখন যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার যম। এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব কেবল যুদ্ধের গতিই বদলে দিচ্ছে না, বরং ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রাণহানিও অনেকাংশে কমিয়ে দিচ্ছে। যেখানে সাবেকি রণকৌশল থমকে যাচ্ছে, সেখানে ইউক্রেনের ‘স্মার্ট ওয়্যারফেয়ার’ রাশিয়ার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গত কয়েক বছরে ইউক্রেন কয়েক হাজার ড্রোন তৈরি করেছে, যা রুশ ট্যাঙ্কের ওপর নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানছে। ল্যাবে তৈরি এই ড্রোনগুলি কেবল আকাশেই নয়, সমুদ্রের বুকেও রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরকে তটস্থ করে রেখেছে। কেন রোবট সৈন্যের ওপর এত জোর দিচ্ছে ইউক্রেন? উত্তর খুব সহজ, একটি রোবট ধ্বংস হলে কেবল টাকার ক্ষতি হয়, কিন্তু একজন সৈনিকের মৃত্যু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। ‘আর্মি অফ ড্রোন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এমন এক রোবোটিক সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে যারা মাইন পরিষ্কার থেকে শত্রুর বাঙ্কারে গ্রেনেড ফেলা, সব কাজই করছে নিপুণভাবে।
এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে তৈরি হওয়া যন্ত্রগুলোর মগজে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। জিপিএস ছাড়াই লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষমতা কিংবা জ্যামারকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল এখন ইউক্রেনীয় রোবটগুলোর বাঁ হাতের খেল। কিয়েভ আর খেরসনের যুদ্ধক্ষেত্র এখন কেবল বারুদের স্তূপ নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানের এক চরম প্রদর্শনী। ‘আর্মি অফ ড্রোন’ বা ‘রোবট সোলজার’ যে আগামী দিনে যুদ্ধের ব্যাকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে, ইউক্রেনের লড়াই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। রোবটের রক্ত না ঝরার এই সুবিধাই এখন জেলেনস্কির বাহিনীকে দিচ্ছে বাড়তি অক্সিজেন।