হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকাUS Iran Tension 2026 Updates: এবার স্রেফ নিষেধাজ্ঞা নয়, একেবারে জলপথ আটকে ইরানের টুঁটি চেপে ধরার রণকৌশল নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্ট্রেইট অফ হোর্মুজ সংলগ্ন ইরানের সমস্ত বন্দর এলাকায় ‘ব্লকেড’ বা কড়া নৌ-অবরোধ জারি করেছে পেন্টাগন। লক্ষ্য একটাই, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। আমেরিকার সাফ কথা, ইরানের কোনও বন্দর থেকে পণ্য ওঠানামা তো দূর অস্ত, মাছি গলারও উপায় থাকবে না।
এই নাকাবন্দি সফল করতে সমুদ্র ও আকাশপথে বিপুল সমরসজ্জা মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। পারস্য উপসাগরের নীল জলে পাহারা দিচ্ছে ১০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা। জলসীমায় টহল দিচ্ছে ঘাতক যুদ্ধজাহাজ, এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার আর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। আকাশের দখল নিয়েছে এফ-৩৫ বি-র মতো আধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেনকম স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের বন্দর আব্বাস, বুশহর বা চাবাহারের মতো বন্দরে কোনও জাহাজ ঢুকতে বা বেরোতে পারবে না। লাল ফিতের এই বেড়ি কেবল ইরানের জন্যই। তবে সৌদি আরব, কুয়েত বা ওমানগামী জাহাজগুলোকে নিরাপদ যাতায়াতের পথ দিচ্ছে আমেরিকা, যাতে বিশ্ববাজারে তেলের আকাল না পড়ে।
অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টার ফল হাতেনাতে পেয়েছে পেন্টাগন। অন্তত ৬টি বিশালাকার পণ্যবাহী জাহাজ আমেরিকার রক্তচক্ষু দেখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হল তেল রফতানি। এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেহরানের রাজকোষ যে শূন্য হতে বেশি সময় লাগবে না, তা বলাই বাহুল্য। তবে পেশিশক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনীতির জানালাও কিছুটা খোলা রেখেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাব পেশ করেছে। এখন দেখার, এই নৌ-অবরোধ কি শেষমেশ যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে, নাকি আলোচনার টেবিলে নতিস্বীকার করবে ইরান।