Iran Ceasefire 2026: US-ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ কি থেমে গিয়েছে? এখন পরিস্থিতি ঠিক কোনদিকে?

৪০ দিন ৪০ রাত। ভয়াবহ যুদ্ধের পর আপাতত বিরতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছে। খুলছে হরমুজ প্রণালী। তবে এর মানে এই নয় যে যুদ্ধ সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও বেশ অস্থির। 

Advertisement
US-ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ কি থেমে গিয়েছে? এখন পরিস্থিতি ঠিক কোনদিকে?বর্তমান পরিস্থিতি জানুন
হাইলাইটস
  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছে।
  • এর মানে এই নয় যে যুদ্ধ সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছে।
  • সংঘাতের কেন্দ্রে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।

৪০ দিন ৪০ রাত। ভয়াবহ যুদ্ধের পর আপাতত বিরতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছে। খুলছে হরমুজ প্রণালী। তবে এর মানে এই নয় যে যুদ্ধ সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও বেশ অস্থির। মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৪০ দিনের এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও কম নয়। এমতাবস্থায় হঠাৎই ৪১তম দিনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। যদিও মনে রাখতে হবে, এই বিরতি মানে কিন্তু সম্পূর্ণ শান্তি নয়। বরং 'কুলডাউন উইন্ডো' হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে সম্মত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপাতত সংঘর্ষ থামলেও উত্তেজনা কমেনি। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, এরপর ইসলামাবাদে কূটনৈতিক বৈঠকে মুখোমুখি হতে পারে ইরান ও আমেরিকা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাতেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে বলে খবর। শুক্রবার প্রথম দফার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা।

আমেরিকা ইতিমধ্যেই ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ১০ দফা পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং হরমুজের উপর নিজেদের কর্তৃত্বের দাবি করেছে।

আসল ইস্যুটা মনে আছে তো? 
সংঘাতের কেন্দ্রে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হোক। কিন্তু ইরান বারবার জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের শক্তি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনও আপস করবে না।

২০১৫ সালের JCPOA চুক্তির যে আর কোনও মানেই নেই, তা বলাই বাহুল্য। বহুদিন আগেই ভেঙে গিয়েছে। ফলে এখন নতুন করে কোনও নিয়ম আরোপ করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনৈতিক চাপ ও বিশ্ববাজার
এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধ চলাকালীন ১১০ ডলার ছুঁয়েছিল, যা যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে ৯৫ ডলারে নেমেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ভারতের বাজারেও প্রথম সপ্তাহেই ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লেগেছে।

Advertisement

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে এবং সাপ্লাই চেইনে বড় ধাক্কা লাগবে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি চাপে পড়বে।

অনিশ্চয়তা কাটেনি
যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও ভঙ্গুর। ইতিমধ্যেই ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। ফলে ফের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নরম করলেও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইরানের কৌশল
এই বিরতি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত, অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করার সুযোগ পাবে।

এছাড়া ইয়েমেন ও লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী; হুথি ও হিজবুল্লা; পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে হুথিদের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ
এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী ২৪ ঘণ্টার উপর। যদি তিন পক্ষই; যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইজরায়েল; শান্ত থাকে, তবেই ইসলামাবাদের আলোচনা এগোতে পারে। কিন্তু সামান্য উস্কানিতেই যদি আবার সংঘর্ষ শুরু হয়, তা হলে আপাতত শান্তির সম্ভাবনা কম, মত বিশ্লেষকদের।  

POST A COMMENT
Advertisement