ইরানের উপর প্রাণঘাতী অ্যাটাক করতে পারে আমেরিকা?ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা নিয়ে সমস্যা এখনও কাটেনি। আদৌ আলোচনা হবে কিনা, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। কারণ একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার উপর জোর দিচ্ছেন এবং অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের কথাও বলেছেন। এরইমধ্যে সেন্টকম ইরানের ওপর একটি প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তবে, ট্রাম্প এখনও এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেননি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তরফে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে একটি নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য হল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার মার্কিন দূতাবাসগুলোতে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় কূটনীতিকদের এই জোটে যোগদানের জন্য বিদেশি সরকারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলো হলো তথ্য আদান-প্রদান, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ খোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন অন্য দেশের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
হরমুজে ইরানের উপর অবরোধ চলবে
ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ চলবে । তিনি ইরানের তিন-পর্যায়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে প্রথমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং তারপর পারমাণবিক আলোচনার কথা বলা হয়েছিল।
পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান
মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের সরকারি প্রেস টিভি একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা আধিকারিকের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই অবৈধ নৌ অবরোধ চলতে থাকলে মার্কিন নৌবাহিনী শীঘ্রই "বাস্তব ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের" সম্মুখীন হবে। তেল রফতানি করতে না পারায় ইরান বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে তেহরান আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি শুনিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপরে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার জন্য ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২১ ঘণ্টা আলোচনার পর সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এর পরপরই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী অবরোধ আরোপ করে।