হরমুজে মার্কিন হেলিকপ্টার আছড়ে ফেলার প্রতিশোধহরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ভয়ঙ্কর আকার নিল। বুধবার সকাল (ভারতীয় সময়) থেকেই নয়া মোড় নিয়েছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। ফলে আপাতত শান্তি চুক্তির প্রস্তাব বিশবাঁও জলে। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর উপর মার্কিন হেলিকপ্টার ভেঙে পড়তেই ইরানের একাধিক জায়গায় হামলা চালাল আমেরিকা। জানা গিয়েছে, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এয়ারস্ট্রাইক করা হয়েছে।
কোথায় কোথায় হামলা চালানো হয়েছে?
হরমুজ প্রণালী ঘেঁষা দক্ষিণ ইরানের একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে এই এয়ারস্ট্রাইক চালানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত করার পরেই 'আত্মরক্ষার্থে' এই হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেনা সূত্রে খবর, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবহরের যুদ্ধবিমানগুলো নির্ভুল টার্গেটে হামলা চালিয়ে ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও নজরদারি চালানো রাডার গুলোকে ধ্বংস করেছে । মার্কিন সামরিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জবাবেও এই অভিযানটি চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদমীধ্যম সূত্রে খবর, অধিকাংশ হামলার খবর পাওয়া গেছে হরমোজগান প্রদেশ থেকে। ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং জাস্কে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইরানি সংবাদ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশেপাশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। সিরিক শহরে একটি মিসাইল এসে পড়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। জাস্ক এবং কুহ-ই-মোবারকের দুটি জায়গাতেও একই ধরনের মিসাইল আঘাত হেনেছে।
IRGC কী জানাল?
ইরান এই হামলাগুলোকে তার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দাবি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর দাবি, মার্কিন বাহিনী মিথ্যা অজুহাতে জাস্ক, সিরিক এবং কেশমের বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র তরফে জানানো হয়েছে, এই হামলায় সিরিকের একটি টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ার নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং শহরের মধ্যে দুটি জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান
আঘাত খাওয়ার পর ফের প্রত্যাঘাতও শুরু করেছে ইরান। তেহরানের ড্রোন হামলায় বাহারিনে মার্কিন নৌবহরকে টার্গেট করা হয়েছে। ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।