
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে ভয়াবহ হামলা শুরু হয়। মুহূর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বন্দর আব্বাস। একের পর এক শহরে মিসাইল হামলা হয়। তবে হতাহতের কোনও খবর এখনও মেলেনি। ওয়াশিংটনকে পাল্টা হুমকি দিয়েছে তেহরানও।
বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে ইরান। সেই কারণেই আমেরিকার সেনা তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।’ পাল্টা ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বুশেহর। যেখানে রয়েছে পরমাণু কেন্দ্র। দক্ষিণের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিকেও হামলা করেছে আমেরিকা। ইরানশাহরের একটি বিমানঘাঁটিও ছিল তাদের টার্গেটে।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানকে লক্ষ্য করে চালান তাদের সর্বশেষ দফার বিমান হামলা সম্পন্ন হয়েছে। এই অভিযানে ৯০টি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে একটি বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'মার্কিন বাহিনী সর্বদা সতর্ক, প্রাণঘাতী সক্ষমতা বজায় রেখে প্রস্তুত রয়েছে এবং কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ অনুযায়ী যে কোনও সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে প্রস্তুত।'
পাশাপাশি ট্রাম্পও একাধিক ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের উপর ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত করেছে ওয়াশিংটন। হরমুজের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
ইরানে ৭ দিন ধরে প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলছে। বৃহস্পতিবারই খামেনেইকে সমাধিস্থ করা হবে। তার মাঝেই ইরানের উপর হামলা চালাল আমেরিকা। ট্রাম্পের কথায়, 'আমার মনে হয়, এই চুক্তি শেষ। আমি এদের সঙ্গে আর কোনও চুক্তি করতে চাই না, এরা নীচ, জঘন্য মানুষ। এদের নেতৃত্বেও রয়েছে জঘন্য ব্যক্তিরা।'
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, বৃহস্পতিবার বাহরিনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতর এবং কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পরই নৌবাহিনীর সদর দফতরে আগুন লাগে। পাশাপাশি কুয়েতে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে ইরানের সংবাদমাধ্যম। সেখানে ওই ঘাঁটিকে আমেরিকার সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি বলেও উল্লেখ করা হয়। আগেই ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সতর্ক করে জানিয়েছিল, মার্কিন হামলার ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে তাঁরা। অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে তারা।