US Tariff on India: ৫০%, ২৫%, ১৮%... ট্রাম্পের ট্যারিফ-অস্থিরতায় বিরক্ত মার্কিন আদালতও, শেষমেশ কত?

US Tariff on India: কখনও ২৫%, কখনও ৫০%, আবার কখনও কমে ১৮%। বার বার বদলেছে শুল্কের হার। ভারতের রফতানিতে আমেরিকার শুল্ক নিয়ে বিভ্রান্ত বিশ্লেষকরাও। এমতাবস্থায় এই বারবার শুল্ক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলল সেদেশেরই আদালত।

Advertisement
৫০%, ২৫%, ১৮%... ট্রাম্পের ট্যারিফ-অস্থিরতায় বিরক্ত মার্কিন আদালতও, শেষমেশ কত?বারবার শুল্ক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলল সেদেশেরই আদালত।
হাইলাইটস
  • কখনও ২৫%, কখনও ৫০%, আবার কখনও কমে ১৮%।
  • বার বার বদলেছে শুল্কের হার।
  • ভারতের রফতানিতে আমেরিকার শুল্ক নিয়ে বিভ্রান্ত বিশ্লেষকরাও।

US Tariff on India: কখনও ২৫%, কখনও ৫০%, আবার কখনও কমে ১৮%। বার বার বদলেছে শুল্কের হার। ভারতের রফতানিতে আমেরিকার শুল্ক নিয়ে বিভ্রান্ত বিশ্লেষকরাও। এমতাবস্থায় এই বারবার শুল্ক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলল সেদেশেরই আদালত। শেষ পর্যন্ত ভারতের উপর কত শতাংশ ট্যারিফ বসবে? প্রশ্ন তুলল US Supreme Court।

ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ অস্ত্র’ ও বিশ্ব বাণিজ্যে চাপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বার বার ট্যারিফকে কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংঘাত; নানা ইস্যুতে ট্যারিফ চাপিয়ে অন্য দেশগুলিকে চাপের মুখে ফেলার কৌশল নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ট্রেড ওয়ার পরিস্থিতির পিছনেও এই নীতির যথেষ্ট বড় ছিল।

ভারতের ক্ষেত্রেও সেই একই কৌশল নিয়েছিল আমেরিকা। প্রথমে ভারতের উপর ২৫% 'রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ' চাপানো হয়। পরে হঠাৎ তা বাড়িয়ে ৫০% করা হয়। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির 'শাস্তি' হিসাবেই নাকি এই ট্যারিফ, যুক্তি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার দাবি ছিল, এতে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া পরোক্ষভাবে সুবিধা পাচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক বসিয়েছে তারা।

৫০% থেকে কমে ১৮%, বাণিজ্য চুক্তিতে স্বস্তি
ট্যারিফ ৫০% হয়ে যাওয়ার পর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই দেশের মধ্যে ট্রেড ডিল নিয়েও জটিলতা বাড়ে। তবে পরে আলোচনার পর পরিস্থিতি বদলায়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির সমঝোতার পর আমেরিকা ট্যারিফ ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করে দেয়।

এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিলেন ভারতের রফতানিকারীরা।  

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ফের ধোঁয়াশা
এর মধ্যেই বড় রায় দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) অনুযায়ী, সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এই ধরনের ট্যারিফ বসাতে পারেন না। ফলে ১৮% ট্যারিফের আইনি ভিত্তিই কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এহেন পরিস্থিতিতে নতুন করে হিসাব নিকেষ শুরু হয়েছে। আদালতের রায়ের ফলে আগের 'মোস্ট ফেভার্ড নেশন' (MFN) স্ট্যাটাস অনুযায়ী ভারতের উপর মূল শুল্ক মাত্র ৩.৫% এ নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা, ১০% গ্লোবাল ট্যারিফ
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই দ্রুত নতুন করেন ট্রাম্প। তিনি মার্কিন আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে ১০% 'গ্লোবাল ট্যারিফ' ঘোষণা করেন। এই ধারা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ১৫% শুল্ক বসাতে পারেন। তবে পরে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

এই নতুন ১০% গ্লোবাল ট্যারিফ যুক্ত হলে ভারতের মোট ট্যারিফ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৩.৫%। কারণ, মূল ৩.৫% শুল্কের সঙ্গে নতুন ১০% যোগ হবে।

১৮%, ১০% না ১৩.৫%; কোনটা লাগু হবে?
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত-আমেরিকা ট্রেড ডিল অনুযায়ী ভারতের উপর ১৮% ট্যারিফই বহাল থাকবে। কিন্তু পরে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানায়, আইনি অবস্থান অনুযায়ী বর্তমানে ১০% গ্লোবাল ট্যারিফ কার্যকর।

ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যত ভারতের উপর মোট শুল্ক প্রায় ১৩.৫% হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ও নতুন বাণিজ্য চুক্তির উপরেই পুরোটা নির্ভর করছে।

ভারতের রফতানিতে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
এই ট্যারিফ অনিশ্চয়তার ফলে ভারতের রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মা খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement