নিকোলাস মাদুরো সাঁইবাবার সঙ্গে ভারতে নিজের স্বাধীন রাষ্ট্র থেকে সস্ত্রীক অপহৃত হয়েছেন নিকোলাস মাদুরো। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে রয়েছেন আমেরিকার ব্রুকলিনের অন্ধকার কারাগারে। সমাজবাদী মনোভাবাপন্ন এই রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন জোর চর্চা। তবে জানেন কি বামপন্থী এই মাদুরোর সঙ্গে রয়েছে ভারতের নিবিড় যোগ। তিনি সত্য সাঁইবাবার একনিষ্ঠ ভক্ত।
রাজনৈতিক কেরিয়ারে ঊর্ধ্বগগনে থাকার অনেক আগেই স্ত্রী সিলি ফ্লোরেসের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন নিকোলাস মাদুরো। সালটা ছিল ২০০৫। বলা হয়, ভারতে এসে নাকি আধ্যাত্মিক সংযোগ খুঁজে পেয়েছিলেন হুগো শাভেজের এই উত্তরসূরি।
মাদুরো এবং ফ্লোরেস উভয় সত্য সাঁইবাবাকে অনুসরণ করেন। ক্যাথলিক ধর্মে বেড়ে ওঠা মাদুরোকে বিয়ের আগেই ভারতে নিয়ে এসেছিলেন ফ্লোরেন্স। সেখানেই সত্য সাঁইবাবার সঙ্গে তাঁদের প্রথম পরিচয়। এই যুগল ২০০৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপার্থি অঞ্চলে প্রশান্তি নিলয়ম আশ্রমে সত্য সাঁইবাবার সঙ্গে দেখা করেন।
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর সেই ভারত সফরের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তরুণ মাদুরো এবং ফ্লোরেন্স তাঁদের একান্ত সাক্ষাতের পর সাঁইবাবার সঙ্গে মেঝেতে বসে রয়েছেন।
জানা যায়, মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর সঙ্গে সঙ্গেই মিরাফ্লোরেস প্রাসাদে সাইমন বলিভার এবং হুগো শাভেজের ব্যক্তিগত অফিসের দেওয়ালে একটি সাইঁবাবার প্রতিকৃতি স্পষ্ট ভাবে ঝোলানো হয়েছিল।
২০১১ সালে ভারতীয় ধর্মগুরুর মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী মাদুরো একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাবের জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর নির্দেশে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদ একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব পাশ করে এবং মানবতার প্রতি আধ্যাত্মিক অবদানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জাতীয় শোক দিবসও ঘোষণা করে।
বছরের পর বছর ধরে সত্য সাঁই সংগঠন মাদুরোর শাসনকালে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছে। এমনকী, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বহিষ্কারের সম্মুখীন হলেও ভেনেজুয়েলা ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম সাঁইবাবা ভক্ত সম্প্রদায়গুলির মধ্যে একটি। যার শিকড় ১৯৭৪ সাল থেকে বিস্তৃত।
২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলা সরকার 'ওম' প্রতীক সম্বলিত জাতীয় দিবস উদযাপনের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে গ্রেফতার হওয়ার মাত্র কয়েকমাস আগে মাদুরো সাঁইবাবার শতবর্ষ উদযাপনের জন্য উদ্যোগ নিয়ে অনেকের চক্ষুসূল হন। তিনি একটি সরকারি বিবৃতিতে সাঁইবাবাকে আলোর সত্তা হিসেবে বর্ণনা করেন। মাদুরো কথায়, 'আমরা যখন দেখা করতাম তখন এই মহান শিক্ষকের জ্ঞান আমাদের আলোকিত কর রাখত।'
মাদুরো ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর এক শ্রমিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এক ট্রেড ইউনিয়ন নেতার ছেলে ছিলেন তিনি। স্কুলে পড়াকালীনই তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘের সদস্য হন। রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। আদর্শগত পাঠের জন্য যখন তিনি কিউবায় যান। ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসার পর, মাদুরো কারাকাস সাবওয়ে সিস্টেমে একজন বাস চালক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি সেখানকার ইউনিয়নের একজন নেতা হয়ে ওঠেন। ৯-এর দশকে ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মাদুরোকে একজন বামপন্থী উগ্রপন্থী হিসাবে চিহ্নিত করে। ১৯৯২ সালে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হুগো শাভেজ একটি রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। তিনি কারাবন্দি হন। অবশেষে ১৯৯৪ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ক্ষমা পান। হুগোর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মাদুরো তখন বাস চালকের চাকরি ছেড়ে দেন এবং সেই রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দেন। হুগোর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন মাদুরো। ১৯৯৯ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন হুগো। ২০০৬ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার বিদেশমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০১৩ সালে হুগোর মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদে বসেন মাদুরো।