পঞ্চম দিনে যুদ্ধ আরও ভয়াবহমধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। রণক্ষেত্রের ময়দান হয়ে উঠেছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পরও এতটুকু জমি ছাড়তে নারাজ তেহরান। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় আমেরিকার বড় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও তা মানতে নারাজ ওয়াশিংটন। তারপরেও টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে উভয় পক্ষই। একদিকে ইরান আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্রে মার্কিন সেনাঘাঁটি ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও আমেরিকা টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের উপর। সব মিলিয়ে ভয়াবহ দিকে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য।
ইজরায়েলের নৌঘাঁটিতে হামলা হিজবুল্লাহর। তারা জানিয়েছে, ড্রোন হামলা করেছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া বা চিন কোনও ফ্যাক্টর নয়। আমেরিকার লক্ষ্য কেবল তেহরান। জানালেন USA-র প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে জিতছে আমেরিকা। যতদিন চাইবে আমেরিকা যুদ্ধ করবে। তাদের সেই ক্ষমতা আছে। তাঁর কথায়, 'আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচুর রানওয়ে রয়েছে। যতদিন প্রয়োজন ততদিন আমরা সহজেই এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারি।'
আমেরিকার সাবমেরিনের হামলায় ভারত মহাসাগরে ইরানের সামরিক যুদ্ধজাহাজে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। জানালেন শ্রীলঙ্কার উপ-বিদেশ প্রতিমন্ত্রী। জাহাজটি পূর্ব ভারতীয় বন্দর থেকে যাত্রা ফিরছিল।
এই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী।
ইরান-ইজরায়েল ইস্যুতে স্পেন সরকার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল। তাদের তরফে জানানো হল, ইউক্রেন ও গাজা ইস্যুতে তাদের অবস্থান একই আছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা আন্তর্জাতিক আইনের ভেঙে পড়ার বিরুদ্ধে। যে আইন আমাদের মঙ্গলের পক্ষে আমরা সেই আইনের জন্য লড়াই করি। পৃথিবীর সমস্যার সমাধান শুধুই বোমা ও যুদ্ধের মাধ্যমে সম্ভব-এমনটা বিশ্বাস করি না। অতীতের ভুলগুলো আর পুনরাবৃত্তি না করি সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।'
শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের একটি জাহাজে সাবমেরিন হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনায় ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। নিখোঁজ ১০১।
ইজরায়েল বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, 'ইরান যাকেই দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেবে, তিনিই আমাদের নিশানায় থাকবেন। ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা ইজরায়েলকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে এবং নেতৃত্ব দিতে, আমেরিকা ও মুক্ত বিশ্ব এবং অন্যান্য দেশগুলোকে হুমকি দিতে এবং ইরানি জনগণকে দমন করতে যাকেই নেতা হিসেবে নিয়োগ করবে, সে হবে আমাদের টার্গেট।'
ইজরায়েল সেনাবাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে ইরানের ‘বাসিজ’ বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড সেন্টারগুলোকে। বাসিজ হল, ইরানের শাসক গোষ্ঠীর অধীন একটি আধাসামরিক বাহিনী, যা দেশের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। আইডিএফের দাবি, এই কমান্ড সেন্টারগুলো ইরান সরকার দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যবহার করত। এছাড়াও ইজরায়েলি বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থা (মিসাইল লঞ্চার) এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামেও হামলা চালিয়েছে বলে জানান হয়েছে। তবে এই ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সব সময় সহজ নয়, এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করতে বড় পদক্ষেপ। ইন্ডিয়া টু'ডের তরফে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার সুবিধার্থে স্পাইসজেট আজ সংযুক্ত আরব আমিশাহী থেকে ৮টি বিশেষ বিমান ভারতের উদ্দেশে রওনা করাবে। এরমধ্যে ৪টি নামবে দিল্লিতে, তিনটি মুম্বইতে ও একটি বিমান নামবে কোচিতে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে সেখানে অবস্থানকারী একাধিক ভারতীয় নাগরিক ও তীর্থযাত্রী নিরাপদে দেশে ফিরলেন। তাঁরা সৌদির বিমানে চেপে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ফিরে আসা যাত্রীদের বক্তব্য, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনও তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি নেই। রিয়াধে কর্মরত ভারতীয় নাগরিক সৌমি জানান, পরিবারের উদ্বেগের কারণেই তিনি নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, 'আমি রিয়াধে কাজ করি। রিয়াধ থেকে জেড্ডা গিয়ে সেখান থেকে বিমানে উঠেছি। রিয়াধে কোনও হুমকি নেই, সবকিছুই শান্ত। কিন্তু ভারতে পরিবার খবর দেখে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। তাই এক সপ্তাহ আগেই ফিরে এলাম।' জেড্ডা থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীরাও জানান, Jeddah–এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কোনও ভয়ের পরিবেশ নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের মধ্যেও জেড্ডাকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিমানবন্দর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সৌদি প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে ভৌগোলিক দূরত্ব, এই দুই কারণেই সেখানে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নন-এমার্জেন্সি কর্মীদের করাচি এবং লাহোরে তাদের দূতাবাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সব কনস্যুলেটেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার পরে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। দেখানো হয় বিক্ষোভ। তাতে প্রাণ যায় অনেকের।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে ইউরোপ। এবার ভূমধ্যসাগরে রণতরী পাঠানোর ঘোষণা করল ফ্রান্স। মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন একথা জানিয়েছেন।
ফের একবার ইজরায়েল লক্ষ্য করে পরপর মিসাইল হানতে শুরু করেছে ইজরায়েল। এবার জেরুজালেম থেকে শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ।
মধ্য়প্রাচ্যে আটকে থাকা ভারতীয়দের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলল বিদেশ মন্ত্রক। কন্ট্রোল রুমে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। কন্ট্রোল রুমের জন্য তিনটি নম্বরও শেয়ার করা হয়েছে। সেগুলি হল 1800118797 (টোল ফ্রি), +91 11 2301 2113, +91 11 2301 4104, +91 11 2301 7905
দুবাইতে ফের মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন হামলা ইরানের। হামলার জেরে অল্প কয়েকটি জায়গায় আগুন লেগে যায়। তবে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে এসকর্ট করা শুরু করতে পারে। কারণ ইরান এই পথে দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলিকে আক্রমণ করার হুমকি দিয়েছে। প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বাড়তে পারে তেলের দাম।
২০টি স্কুলে ইজরায়েল-আমেরিকার হানায় ১৭০ জন ছাত্র-শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করল ইরান।
CNN জানিয়েছে যে সোমবার (৩ মার্চ ২০২৬) মাত্র দুইটি তেল ও রাসায়নিক ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে গিয়েছে। আর সেটাই চিন্তা বাড়াচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির রয়েছে আশঙ্কা। আর সেই কারণেই চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।
৫০ হাজার মার্কিন সেনা, ২০০ জেট ইরানে মোতায়েন রয়েছে বলে জানাল আমেরিকা। তবে এখানেই শেষ নয় আরও সামরিক বাহিনী যাচ্ছে বলে জানাল মার্কিন সেনা।
বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ফের একবার ইরানের উপর বড়সড় হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। গত দু'ঘণ্টায় তেহরানে ফের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গিয়েছে, বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। তবে এঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ইরানের যে কোনও ধরনের হামলার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত সৌদি আরব। নিজেদের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করল সৌদি আরবের মন্ত্রিসভা।