US Midterm Elections 2026: নভেম্বরে আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচন, ট্রাম্পের বিদায়? সহজে বুঝে নিন

আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকানরা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচন করবেন। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেট। এই মিডটার্ম ইলেকশন দু বছর অন্তর হয়। যেহেতু প্রেসিডেন্টের কার্যকালের ৪ বছরের মেয়াদের মাঝে দুবছর পরে হয় এই নির্বাচন, তাই একে মিডটার্ম ইলেকশন বলা হয়।

Advertisement
নভেম্বরে আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচন, ট্রাম্পের বিদায়? সহজে বুঝে নিনমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - এএফপি
হাইলাইটস
  • আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশন কী?
  • কে নির্বাচিত হতে পারেন এই ইলেকশনে?
  • এই নির্বাচনে হেরে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কী হবে?

নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নভেম্বর মাসেই আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের রেজাল্টের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ভবিষ্যত্‍ নির্ভর করছে এই নির্বাচনের উপরে। মার্কিন নাগরিকরা ব্যালট বক্সে জানাবেন তাঁদের মতামত। যে মতের প্রভাব সরাসরি পড়বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে।  

আমেরিকায় মিডটার্ম ইলেকশন কী?

আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকানরা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচন করবেন। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেট। এই মিডটার্ম ইলেকশন দু বছর অন্তর হয়। যেহেতু প্রেসিডেন্টের কার্যকালের ৪ বছরের মেয়াদের মাঝে দুবছর পরে হয় এই নির্বাচন, তাই একে মিডটার্ম ইলেকশন বলা হয়। মার্কিন কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ফেডারেল আইন তৈরি করা এবং তা পাস করানো। এই আইনগুলি সমগ্র আমেরিকায় কার্যকর হয়। মিডটার্ম নির্বাচনের রেজাল্টের উপর নির্ভর করবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। এর উপরেই নির্ভর করবে, প্রেসিডেন্ট তাঁর পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তগুলি কতটা সহজে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এই নির্বাচনের রেজাল্টে ট্রাম্পের এখনও পর্যন্ত কাজকর্ম নিয়ে আমেরিকার সাধারণ মানুষ কতটা সন্তুষ্ট, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়।

কে নির্বাচিত হতে পারেন এই ইলেকশনে?

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সব ৪৩৫ জন সদস্যই নির্বাচিত হবেন এই নির্বাচনে। তাঁরা আগামী ২ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হবেন। নতুন কোনও প্রস্তাবিত আইন পাসের আগে এই কক্ষেই বিতর্ক হয় ও বিল পেশ করা হয়। ঠিক যেমন, ভারতে কোনও বিল লোকসভায় পেশ করা হয়, তারপর রাজ্যসভা। দু জায়গায় পাস হলে তা আইনে পরিণত হয়। সেনেটে (উচ্চ কক্ষ) ১০০টির আসনের মধ্যে ৩৫ আসনেও নির্বাচন হবে। সেনেটররা ৬ বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তাঁদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস বা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবিত আইন অনুমোদন করা অথবা তা আটকে দেওয়া। একই দিনে আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটের ভোটাররা স্টেট লেভেলের জনপ্রতিনিধিদেরও নির্বাচন করবেন। ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং মিসিগানের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নজর থাকবে।

Advertisement

প্রেসিডেন্সি, বিচারব্যবস্থা ও কংগ্রেস, সরকারের মূল তিনটি স্তম্ভ আমেরিকায়। আমেরিকায় কোনও আইন লাগু করতে হলে কংগ্রেসে পাস না হলে তা করা যায় না। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সেনেট, দুই কক্ষেই বর্তমানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দুই কক্ষের মধ্যে যদি একটি কক্ষও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে তারা নিজেদের প্রস্তাবিত আইনগুলি আলোচনার জন্য কংগ্রেসের অধিবেশনে উত্থাপনের সুযোগ পাবে।

এই নির্বাচনে হেরে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কী হবে?

বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা যদি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস বা সেনেট, যে কোনও একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারে, তা হলে কংগ্রেসে কোনও আইন পাস করানো ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠবে। তার জেরে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে তাঁর পরিকল্পনাগুলি বাধার মুখে পড়তে পারে। যদিও রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ সমর্থন ছাড়াও নিজের ক্ষমতা প্রয়োগের বিভিন্ন পথ খুঁজে নিয়েছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের যে কোনও একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে, বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির নানা দিক নিয়ে তদন্তের সুযোগও তৈরি হবে। দুর্নীতির অভিযোগ, হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম তৈরির পরিকল্পনা এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা ICE-এর কার্যকলাপ তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়েও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্দরে আলোচনা চলছে। ইমপিচমেন্ট অর্থাত্‍ কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিচারপ্রক্রিয়া হতে পারে, যা ফৌজদারি বিচারের থেকে পৃথক।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব পড়তে পারে?

মিডটার্ম নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের পদে সরাসরি ভোট হয় না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প রিপাবলিকানদের আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁরা যেন এই নির্বাচনকে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানানোর সুযোগ হিসেবে দেখেন এবং তাঁকে ভোট দেওয়ার কথা মাথায় রেখে ভোট দেন। নির্বাচনের ফল যে দিকেই যাক না কেন, আমেরিকার মানুষ ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশের বর্তমান গতিপথ নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট, তা বোঝার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে ফলাফলকে তুলে ধরতে পারেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

POST A COMMENT
Advertisement