ইরানে প্রতিবাদী হত্যা৮০০ প্রতিবাদীকে হত্যা করতে চলেছিল ইরান। তবে ট্রাম্পের চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন আয়াতুল্লা আলি খামেনেই সরকার। এমনটাই দাবি করেছে হোয়াইট হাউজ।
প্রসঙ্গত, ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। আর প্রতিবাদীদের উপর প্রথম থেকেই দমন নীতি নিয়ে চলেছে ইরান সরকার। নিরপত্তারক্ষীদের সঙ্গে লড়াইতে ২৬০০ জন সাধারণ মানুষের ইতিমধ্যেই প্রাণ গিয়েছে বলে অনুমান বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার। এর উপর আরও ৮০০ প্রতিবাদীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে বলে এগচ্ছিল ইরান। আর ট্রাম্পের সেনা নামানোর হুমকিতে আপাতত তেহরান নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলেই জানা যাচ্ছে।
কী জানাচ্ছে হোয়াইট হাউজ?
এই প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিয়াভিট জানান, ট্রাম্প এবং তাঁর দল সরাসরি ইরানিয়ান আধিকারিকদের হুমকি দেন। তেহরানকে জানিয়ে দেওয়া হয় প্রতিবাদীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তার ফল ভুগতে হবে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রেসিডেন্ট এটা জানেন যে আজ যেই ৮০০ মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা ছিল, সেটা স্থগিত রয়েছে।' পাশাপাশি তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের কাছে এখন সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, প্রতিবাদীদের উপর দমন নীতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ইরানের ৫ আধিকারিকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হোয়াইট হাইজ। এখানেই থেমে না থেকে ইরানের নেতারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের অ্যাকাউন্টে কীভাবে টাকা পাঠাচ্ছেন, সেটাও দেখে নিতে চাইছে আমেরিকা। যার ফলে তেহরানের উপর চাপ বাড়ছিল। সেই কারণেই ইরানের পক্ষ থেকে ৮০০ মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে মনে করছে হোয়াইট হাইজ।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেস সচিব আরও বলেন, 'প্রতিবাদীদের হত্যা করা চলতে থাকলে ভয়ঙ্কর পরিণতি সইতে হবে ইরানকে বলে হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।' আর সেই কারণেই ইরানের মত বদল বলে মনে করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ইরানের পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। আর এমন অবস্থায় সব ভারতীয়দের দেশে ফিরতে বলেছে মোদী সরকার। সেই মতো ব্যবস্থা নিয়ে ফেলেছে তেহরানে উপস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সবাইকে নথি তৈরি রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে দূতাবাসে যোগাযোগের দেওয়া হয়েছে পরামর্শ। এখন দেখার কত তাড়াতাড়ি ইরান থেকে সব নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে পারে ভারস সরকার। আবার কোন পথে এগিয়ে যায় ইরানের পরিস্থিতি, সেই দিকেও চোখ থাকবে বিশেষজ্ঞদের।