গ্রিনল্যান্ডে কোন সম্পত্তির দিকে নজর ট্রাম্পের?ভেনেজুয়েলা থেকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে আনার পর এবার ট্রাম্পের নজরে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
ট্রাম্পের কেন গ্রিনল্যান্ড দরকার?
গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে ট্রাম্প যে প্রথম এমন পদক্ষেপ নিল, তা কিন্তু নয়। ২০১৯ সালে প্রথম তিনি গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে, ডেনমার্ক সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে অক্ষুণ্ণ। জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের বিশেষ দূত নিযুক্ত করার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়। ল্যান্ড্রি খোলাখুলিভাবে বলছেন, গ্রিনল্যান্ডকে অবশ্যই আমেরিকার মধ্যে নেওয়া উচিত।
গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান জানুন
গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি বৃহৎ দ্বীপ। গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমে কানাডা এবং পূর্বে আইসল্যান্ড অবস্থিত। যদিও গ্রিনল্যান্ড স্থলপথে উত্তর আমেরিকার অংশ, এটি ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
কেন ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দরকার?
গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব কেবল রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ মিষ্টি জল রয়েছে এখানেই। জলবায়ু পরিবর্তন ও জল সংকটের যুগে এই জল ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ। CIA.GOV অনুসারে, এখানে কয়লা, লৌহ আকরিক, সীসা, দস্তা এবং মলিবডেনামের মতো খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। হীরা, সোনা এবং প্ল্যাটিনামের মতো মূল্যবান খনিজ পদার্থও এখানে পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিরল খনিজ পদার্থ নিওবিয়াম, ট্যানটালাম এবং ইউরেনিয়াম, যা আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
এছাড়াও, গ্রিনল্যান্ড সামুদ্রিক সম্পদেও সমৃদ্ধ। এখানে প্রচুর পরিমাণে মাছ, সীল এবং তিমি রয়েছে। এই প্রাণীগুলির নানা গুরুত্ব রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হয়। এখানে সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের মজুদও রয়েছে বলে জানা গেছে, যা এর কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
গ্রিনল্যান্ডের এই সম্পদগুলি আজকের প্রযুক্তির যুগে অত্যন্ত লোভনীয় হতে পারে। এখানে পাওয়া খনিজ পদার্থগুলি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, বায়ু টারবাইন, সামরিক সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উপগ্রহ এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডকে শুধুমাত্র একটি দ্বীপ হিসেবে দেখছে না, বরং ভবিষ্যতের সম্পত্তির ভাণ্ডার হিসেবে দেখছে।
গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারে চিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। চিনা কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই সেখানে খনির প্রকল্পে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিরল খনিজ পদার্থের উত্তোলনে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমেরিকা ও ডেনমার্ক উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। গ্রিনল্যান্ডের সম্পদের উপর চিনের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে,তা আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।