Nepal violence: নেপাল কেন জ্বলছে? 'ধর্মযুদ্ধে' রক্তারক্তি, মৃত্যু বাড়ছে, বহু জায়গায় কার্ফু

ফের জ্বলছে নেপাল। মৃত অন্তত ৩। জখম বহু। ঠিক কেন এমন পরিস্থিতি? জেনে নিন।

Advertisement
নেপাল কেন জ্বলছে? 'ধর্মযুদ্ধে' রক্তারক্তি, মৃত্যু বাড়ছে, বহু জায়গায় কার্ফুফের জ্বলছে নেপাল
হাইলাইটস
  • ফের জ্বলছে নেপাল
  • মৃত অন্তত ৩
  • ঠিক কেন এমন পরিস্থিতি?

শুরুটা হয়েছিল নেপালের সুনসারি জেলায়। এবার সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে ওই দেশের একাধিক এলাকায়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছে নেপাল সেনাকেও। এই অবস্থায় দেশবাসীকে শান্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। 

মাথায় রাখতে হবে, গত ৪ দিন ধরে উত্তপ্ত নেপাল। সংঘর্ষে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেক মানুষ বলে খবর মিলছে।

আসলে সপ্তাহের শুরুতে সুনসারি জেলার দেবাঙ্গঞ্জ এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে হিংসার সূত্রপাত হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে মাধেশ প্রদেশের ধনুষা ও সিরাহা সহ একাধিক জেলায়। 

কীভাবে শুরু হল সংঘর্ষ?
যতদূর খবর, একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রার সময় লাউডস্পিকার ব্যবহার এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই সময়ই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়।

তারপর বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পাথর ছোড়া শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষও হয়। তাতে একাধিক গাড়ি, দোকান এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। 

এমতাবস্থায় হিংসা আরও ছড়িয়ে পড়া রুখতে চাইছে প্রশাসন। সেই মতো এলাকাগুলিতে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

আরও ছড়িয়েছে হিংসা
প্রথমে সুনসারি জেলায় শুরু হয় হিংসা। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য জেলাগুলিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাই ইনারুয়া, জনকপুর, সিরাহা, গোলবাজার এবং লাহান সহ একাধিক এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ধনুষা এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ধনুষা জেলায় লক্ষ্মিনিয়া হাটবাজার, বেলাউনি রোড, নগরাইন পৌরসভা, দুধমতি সেতু এবং জনকপুরের একাংশে কারফিউ জারি রয়েছে। সিরাহার গোলবাজার এলাকাতেও সতর্কতামূলকভাবে একই ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে।

সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিপুল সংখ্যক নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

Advertisement

স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত
হিংসার জেরে বহু জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাজার বন্ধ। পরিবহণ আংশিকভাবে বন্ধ। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে পঠনপাঠন স্থগিত রয়েছে।

নিহতদের 'শহিদ' ঘোষণা

এই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ বছরের ওম প্রকাশ মেহতা এবং ২২ বছরের জয় প্রকাশ মেহতা। পুলিশের গুলিতে তাঁরা আহত হন। পরে মৃত্যু হয়।

দেবাঙ্গঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভা স্থানীয় স্তরে ওম প্রকাশ মেহতা এবং জয় প্রকাশ মেহতাকে 'শহিদ' ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি নেপাল সরকারের কাছে তাঁদের সরকারি শহিদের মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ নেপালি টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। গুলিতে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা গুরুতর আহতদের ২ লক্ষ নেপালি টাকা এবং তুলনামূলক কম গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার নেপালি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শান্তির আবেদন প্রধানমন্ত্রীর
মাত্র কয়েক মাস নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে বালেন্দ্র শাহ। এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্যবজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা চান।

তবে ইতিমধ্যেই এই হিংসা নিয়ে প্রশাসনকে আক্রমণ করছে বিরোধী দলগুলি। তাদের দাবি, প্রশাসন যথাসময়ে পদক্ষেপ নেয়নি। নইলে এমন অবস্থা হতো না। 

 

POST A COMMENT
Advertisement