নোবেল হাতে ট্রাম্পগত বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আর সেই পুরস্কারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরই তিনি নিজের নোবেলটা তুলে দেন। নোবেল হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি পোস্ট করে হোয়াইট হাউজ। মুহূর্তেই সেটা হয়ে যায় ভাইরাল।
আর তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, পৃথিবীর সবথেকে ক্ষমতাশালী দেশের রাষ্ট্রপতি কেন হঠাৎ 'সেকেন্ড হ্যান্ড নোবেল' নিলেন? কী এমন দায় পড়েছে তাঁর? আর এই প্রশ্নটা সরাসরি ট্রাম্পকেও করা হয়। তিনি তখন বলেন, 'উনি আমায় এটা গ্রহণ করতে বলেছেন। আমার খুবই ভাল লেগেছে।'
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পের আরও দাবি, 'মাচাদো আমায় বলে, আপনি ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। এই পুরস্কারের দাবিদার আপনার থেকে বেশি কেউ নয়।' আর এই কথাতেই মন গলে যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। আর সেই কথাটাও নির্দ্ধিধায় জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'আমার খুবই ভাল লেগেছে। আর সত্যি বলতে, উনি খুবই দয়ালু মানুষ। আমরা আবার কথা বলব।'
নোবেলের দিকে লোভ রয়েছে ট্রাম্পের
দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে বসার পরই নোবেলের দিকে চোখ যায় ট্রাম্পের। তিনি গতবারই শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য লাফিয়ে ওঠেন। বারবার নিজের দাবি জানান।
তাঁর মতে, তিনি ৭টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। তাই নোবেল কমিটির উচিত শান্তির নোবেলটা তাঁকে দেওয়া। এই সময় তিনি নিজেই নিজেকে 'শান্তির দূত' বলে ঘোষণা করে দেন।
যদিও এত কিছু করার পরও নোবেল পাননি ট্রাম্প। তাঁর জায়গায় শান্তিতে নোবেল পান ভেনেজেয়ুলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আর মাচাদোর নোবেল পাওয়ার খবরে রেগে বোম হয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিজে মুখেই তিনি সেই কথা জানিয়েছেন। আর ভাগ্যের পরিহাসে তাঁরই পুরস্কার নিচ্ছেন ট্রাম্প, 'সেকেন্ড হ্যান্ড নোবেল'।
কিছু দিন আগে বদলে যায় পরিস্থিতি
আসলে ৩ জানুয়ারি কার্যত ভেনেজুয়েলা দখল করেন ট্রাম্প। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনেন আমেরিকা। আর এই ঘটনার পর থেকেই ভেনেজুয়েলায় পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরির জন্য ব্যস্ত আমেরিকা। এমন পরিস্থিতিতে বৈঠক করেন ট্রাম্প এবং মাচাদো। আর সেই বৈঠকের পরই হোয়াইট হাইজে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন মাচাদো। পাশাপাশি তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, 'ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর এখন ভরসা রাখতে হবে।'