Oil Price in India: হঠাত্‍ OPEC থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে UAE, তেলের দাম বাড়বে? ভারতের লাভ নাকি ক্ষতি? বিস্তারিত

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে অশোধিত তেলের সাপ্লাই নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশ্বের একটি বড় অংশে। অর্গানাইজেশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (OPEC) তৈরি হয় ১৯৬০ সালে।

Advertisement
হঠাত্‍ OPEC থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে UAE, তেলের দাম বাড়বে? ভারতের লাভ নাকি ক্ষতি? বিস্তারিতOPEC থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
হাইলাইটস
  • সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কেন ছেড়ে দিল?
  • আরব আমিরশাহির দীর্ঘমেয়াদী স্ট্র্যাটেজি কাজ করছে
  • ভারতের জন্য লাভ না ক্ষতি?

OPEC ও OPEC+ গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পয়লা মে থেকে OPEC গোষ্ঠীতে থাকছেন তারা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়ছে, এহেন সময়ে OPEC থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে অশোধিত তেলের সাপ্লাই নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশ্বের একটি বড় অংশে। অর্গানাইজেশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (OPEC) তৈরি হয় ১৯৬০ সালে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনেজুয়েলা মিলে। তেল উত্‍পাদক দেশগুলির একটি গোষ্ঠী এই OPEC।  এই গোষ্ঠী তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্ববাজারে যাতে অশোধিত তেলে সাপ্লাই ও দাম ঠিক থাকে। 

পরবর্তীকালে ওই গোষ্ঠীতে আরও কয়েকটি দেশের অন্তর্ভূক্তি হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আলজেরিয়া ও অন্যান্য, সব মিলিয়ে OPEC+, আরও বৃহত্তর অর্গানাইজেশন। রাশিয়াকেও ঢোকানো হয় ওই গ্রুপে, যাতে বিশ্বে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কেন ছেড়ে দিল?

এখানে একটি বিষয় জানতে হবে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি OPEC গোষ্ঠীর শুধুই একজন সদস্য ছিল না, বিশ্বের অন্যতম তেল উত্‍পাদক হিসেবে বলা যায় OPEC-এর একটি স্তম্ভ ছিল। সেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে দিচ্ছে। OPEC-এর কাছে এটি একটি বড় ধাক্কা। বিশেষ করে যখন বিশ্বের তেলের বাজারে অনিশ্চয়তার মেঘ। ইরান ওদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখে দিয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে তেলের সাপ্লাই ও সহায়ক মূল্যের ভারসাম্য রাখার কাজ করে আসছে OPEC। সদস্য দেশগুলি একসঙ্গে ঠিক করে, কীভাবে বিশ্বে তেলে জোগান ঠিক থাকে ও দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই গোষ্ঠীর দেশগুলি মোট যত অশোধিত তেল উত্‍পাদন করে, তার ১২ শতাংশই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। 

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অজিত ডোভালের বৈঠক- রয়টার্স
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অজিত ডোভালের বৈঠক- রয়টার্স

আরব আমিরশাহির দীর্ঘমেয়াদী স্ট্র্যাটেজি কাজ করছে

OPEC ছাড়ার পিছনে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দীর্ঘমেয়াদী স্ট্র্যাটেজি কাজ করছে। আরব আমিরশাহির শক্তিমন্ত্রকের মন্ত্রী সুহেল আল মজরউয়েইয়ের বক্তব্য, তেল উত্‍পাদন নিয়ে সিদ্ধান্তে আরও স্থিতিস্থাপকতা আসবে। স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। বস্তুত, তেল উত্‍পাদন আরও বাড়ানোর পথে হাঁটছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কিন্তু OPEC-এর জন্য সেই কাজ করতে পারছিল না সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।  কারণ, OPEC গোষ্ঠীর বেঁধে দেওয়া থাকে উত্‍পাদন ও রফতানির পরিমাণ। সেই নিয়ন্ত্রণ আর থাকবে না সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপরে। তারা চাইছে ২০২৭ সালের মধ্যে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন উত্‍পাদন করতে, কিন্তু OPEC গোষ্ঠীতে থেকে তা সম্ভব হচ্ছিল না। 

Advertisement

ভারতের জন্য লাভ না ক্ষতি?

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এই সিদ্ধান্ত ভারতের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে নয়া সুযোগ ও ঝুঁকি, দুটোই। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি ভারতের কাছে চিন্তার। তেল আমদানির খর বাড়ছে, তার প্রভাব পড়ছে জিনিসপত্রের দামেও। 

দীর্ঘমেয়াদে যদি দেখা যায়, যদি সংযুক্ত আর আমিরশাহি উত্‍পাদন বাড়ায় ও জোগান বাড়ায়, তাহলে তেলের দাম ও আমদানি খরচ কিছুটা কমতে পারে। মোদ্দা বিষয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এই সিদ্ধান্তে অশোধিত তেলের বাজারে একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে।

OPEC গোষ্ঠীর নির্ধারিত উত্‍পাদন পরিমাণ ও জোগানে নিয়ন্ত্রণে না থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি চাইবে, বেশি করে তেল উত্‍পাদন করে আরও বেশি রাজস্ব আদায় করতে। তবে এর প্রভাব এখনই দেখা যাবে না। ভবিষ্যতের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ভাবা যেতে পারে।

তাই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এই সিদ্ধান্ত নিছকই একটি আইসোলেটেড সিদ্ধান্ত নাকি তেল উত্‍পাদনকারী দেশগুলিকে নতুন করে ভাবাবে, তা সময়ই বলবে।
 

POST A COMMENT
Advertisement