গরমে ভ্যানিশ ডায়েট কোকযত গরম যত বাড়ছে, ততই দোকানে দোকানে ঠান্ডা ডায়েট কোক-এর খোঁজ বাড়ছে। কিন্তু এ বছর চেনা সেই সিলভার ক্যানন সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন দোকানে স্টক ফুরিয়ে যাচ্ছে ঠিক চাহিদার সময়েই। কেন এমন হচ্ছে? তার পেছনে রয়েছে বড় গ্লোবাল কারণ।
ক্যান থেকেই শুরু সমস্যা
রিপোর্ট বলছে, সমস্যা পানীয়তে নয়, বরং তার প্যাকেজিংয়ে। অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের ঘাটতির জেরে ডায়েট কোকসহ নানা ক্যানজাত পানীয়র সরবরাহে টান পড়েছে। অন্য কোল্ড ড্রিঙ্ক যেখানে প্লাস্টিক বা কাঁচের বোতলেও সহজলভ্য, ডায়েট কোক মূলত ক্যানের উপরই নির্ভরশীল। ফলে অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্কট সরাসরি এর সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
একই সঙ্গে, কম-চিনি বা সুগার-ফ্রি পানীয়র চাহিদাও হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত এক বছরে এই ধরনের পানীয়র বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি।
বিশ্বজুড়ে অ্যালুমিনিয়ামের দাম আকাশছোঁয়া
এই সঙ্কটের মূল কারণ অ্যালুমিনিয়ামের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম চার বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, প্রতি টন প্রায় ৩,৬৭২ ডলার। ভারতে কেজি প্রতি অ্যালুমিনিয়ামের দাম উঠেছে প্রায় ৩৭৫ টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একেবারে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। অর্থাৎ এমন পরিস্থিতি আগে অনুমান করা সম্ভব ছিল না। ফলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কেন অস্থিরতা দেখা গেল?
এই অস্থিরতার মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলা উত্তেজনা। ওই অঞ্চলে বিশ্বে মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৯% উৎপাদিত হয়। সেখানে সমস্যা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা লেগেছে।
হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পরিবহন খরচ ও বিমার খরচ বেড়েছে। অ্যালুমিনিয়াম তৈরির প্রধান কাঁচামাল অ্যালুমিনার সরবরাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে সমস্যা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বাজারে নেই পর্যাপ্ত মজুত
বর্তমানে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। এই বছর অন্তত ২০ লক্ষ টনের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে মোট মজুতও খুব সীমিত। ফলে এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত রিজার্ভ নেই।
চিন ইতিমধ্যেই উৎপাদনের সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইউরোপে অতিরিক্ত উৎপাদনের সুযোগ খুব কম। ফলে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা কঠিন।
কেন দাম আরও বাড়ছে?
নির্মাণ, গাড়ি ও প্যাকেজিং শিল্পে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বাড়ছে। এই সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম, আর খরচ বাড়ছে।
প্রভাব পড়ছে বাজার ও ক্রেতাদের ওপর
এই গ্লোবাল সমস্যার প্রভাব পড়ছে সরাসরি পানীয় কোম্পানিগুলোর ওপর। অনেক সংস্থা এখন বেশি দামে বিদেশ থেকে ক্যান আমদানি করছে। ফলে প্যাকেজিং খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কিছু সংস্থা কম উৎপাদন করছে, আবার কেউ কেউ বেশি লাভজনক পণ্যে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে বাজারে ডায়েট কোকের মতো কিছু পানীয় কম দেখা যাচ্ছে।
জেন Z-র পছন্দের পানীয়েও টান
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়েট কোক খুব জনপ্রিয়। কম-চিনির লাইফস্টাইলের জন্য এটি অনেকের দৈনন্দিন পছন্দ। কিন্তু এখন তা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। অনেকে বলছেন, দোকানে গিয়ে পাচ্ছেন না, আবার কেউ স্টক পেলে একসঙ্গে বেশি কিনে রাখছেন।