কোভিডের পর ফের বড়সড় 'LOCKDOWN'-এর পথে হাঁটছে বিশ্ব? এল বড় আপডেট

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়েই যায়। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হতেই তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে।

Advertisement
কোভিডের পর ফের বড়সড় 'LOCKDOWN'-এর পথে হাঁটছে বিশ্ব? এল বড় আপডেটকোভিডের পর ফের আসছে বৃহত্তর'LOCKDOWN', কোন পর্যায়ে তেল সঙ্কট?
হাইলাইটস
  • ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
  • বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়েই যায়।
  • একাধিক দেশে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দামই চড়ছে।

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়েই যায়। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হতেই তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। একাধিক দেশে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দামই চড়ছে। এমনকি ভারতেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেখা গিয়েছে।

দোকানে সবকিছুর দাম বাড়ছে। এর অপর একটি কারণ হল খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মাঠে খাবার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। দীর্ঘদিন এই রাস্তা বন্ধ হলে কৃষকদের আরও বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হবে। ফলে এমনিতেই ফসলের দাম বাড়বে। যার প্রভাব দেখা যাবে সাধারণ রান্নাঘরে।

ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স-এর মতো বিমানসংস্থা শুধু এই সপ্তাহেই তাদের ৫ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। অন্য দেশের বিমান সংস্থাগুলোও দ্রুত ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। এক্ষেত্রে বিমান সফর আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এমনকি বেশ কয়েকটি দেশের সরকার অহেতুক সফর করার জন্য অনুরোধ করছে। বিশেষ বিষয় হল, কোভিডের সময়ও দেশের সরকারগুলি এই একই কথা বলেছিল। তখন বলা হয়েছিল, "শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনেই বাইরে যান।"

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে

অনেক দেশ ইতিমধ্যেই অয়েল রেশনিং করছে। জাপানে জ্বালানি রেশনিং চালু রয়েছে। কিছু দেশে জ্বালানি ভাউচার দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও রেশনিং চলছে। বাংলাদেশ, ফিলিপাইন্স ও শ্রীলঙ্কায় পেট্রোলের জন্য পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার সে দেশের জনগণকে অহেতুক ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করেছে। ভারতের ৮০% তেল আসে হরমুজ প্রণালী থেকে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছে। তেলের অপ্রতুলতা সেই সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি ইতিমধ্যেই 'তেল সঙ্কট থেকে সুরক্ষা' নামক একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তাতে সংস্থার তরফে সরকারের উদ্দেশে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-

Advertisement

১) অল্টারনেট দিনে গাড়ি চালান (একদিন চললে, পরের দিন বন্ধ)
২) প্রতিটি হাইওয়েতে সর্বোচ্চ স্পিড কমাতে হবে।
৩)সম্ভব হলে বিমান সফর কমিয়ে দিন। 
৪)গ্যাস স্টোভের পরিবর্তে ইলেকট্রিক স্টোভ ব্যবহার করুন। 
৫)সম্ভব হলে Work From Home চালু করুন।
৬) বাণিজ্যিক গাড়িগুলি দক্ষতার সঙ্গে চালানো হোক।
৭) গণপরিবহণ ব্যবস্থায় জোর দিয়ে, প্রাইভেট গাড়ির কম ব্যবহার ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, IEA-এর তরফে দেওয়া এগুলো কোনও পরামর্শ নয়, বরং সরকারগুলোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পরিকল্পনা। আইইএ বলছে, কোভিডের সময়ে যেমন কার্যকর ছিল, এখন জ্বালানি সংকটের সময়েও ঠিক তেমনই। তবে বিভিন্ন দেশের সরকার একে লকডাউন না বলে জ্বালানি নিরাপত্তা বলবে, কিন্তু এর প্রভাব প্রায় একই থাকবে।

কোভিডের সময় সরকারগুলো হেলথের নামে লকডাউন চালু করেছিল। এখন জ্বালানির নামেও একই ঘটনা ঘটছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ ও ফিলিপিন্স ইতিমধ্যেই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। আমেরিকায় গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। এটা তো সবে শুরু।


 
POST A COMMENT
Advertisement