অসম নির্বাচন এক দফায় ভোট সম্পন্ন হয়েছে অসমে। ১২৬ আসন বিশিষ্ট অসমে হিংসা ছাড়া ভোট সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে তা হল না। বিক্ষিপ্ত হিংসার মধ্যে ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হল। ঝরল রক্ত, ভাঙা হল ইভিএমও। ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে পাথরকান্দি কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিক সেন সিনহাব শ্রীভূমি জেলার রাঙামাটি বুথে ঢুকে প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে বচসায় জড়ান। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ভুয়ো ভোটাররা প্রকৃত ভোটারদের ভোট দিয়ে দিয়েছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করায় ইভিএম ভেঙে ফেলেন ওই প্রার্থী। তা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনায় প্রায় ২৫ জন জখম হন। যাঁদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রায় তিন ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর নতুন ইভিএম এনে আবার ভোট শুরু হয়।
এদিকে,খোয়াং কেন্দ্রেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অসম জাতীয় পরিষদ ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি হয়। এতে এজেপি-র তিন নেতা জখম হন। সেখানকার পুলিশ সুপার গৌরব অভিজিৎ দিলীপ জানান, ঘটনাস্থলটি একটি পার্টি অফিস বলে মনে হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় একাধিক বুথে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিড় ও লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বিবাদ থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়।
ভোটের আগের রাতেও বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটে। তামুলপুর ও শিবসাগরে অশান্তি হয়। পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি চালায় এবং তামুলপুর থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বিটিসি প্রধান জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিবসাগরে হামলার অভিযোগ তুলে অখিল গগৈ বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় দু’জন আহত ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।