Basirhat: একটি বুথেই ৩৪০ নাম 'ডিলিটেড', সবাই মুসলিম, বসিরহাটে কী ঘটল?

বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় ৫ নম্বর বুথে ৩৪০ জনের নাম ছিল বিবেচনাধীন তালিকায়। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পর দেখা গেল, ১০০ শতাংশেরই নাম বাদ গিয়েছে। এমনকী ওই বুথের যিনি BLO ছিলেন,তাঁর নামও ডিলিটেড লিস্ট চলে গিয়েছে। বিএলও নিজেও মুসলিম সম্প্রদায়েরই।

Advertisement
একটি বুথেই ৩৪০ নাম 'ডিলিটেড', সবাই মুসলিম, বসিরহাটে কী ঘটল?বিএলও সহ বসিরহাটে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে
হাইলাইটস
  • ১০০ শতাংশেরই নাম বাদ
  • মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৯৯২ জন
  •  শতাধিক ভোটার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান

SIR-এ ভোটার লিস্ট নিয়ে তোলপাড় চলছে পশ্চিমবঙ্গে। এহেন পরিস্থিতেই বসিরহাটের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক ছড়াল। বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় একটি বুথ থেকেই একসঙ্গে ৩৪০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এই নামগুলি বিবেচনাধীন ছিল। এই ৩৪০ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। এমনকী এঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন BLO-ও। 

১০০ শতাংশেরই নাম বাদ

বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় ৫ নম্বর বুথে ৩৪০ জনের নাম ছিল বিবেচনাধীন তালিকায়। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পর দেখা গেল, ১০০ শতাংশেরই নাম বাদ গিয়েছে। এমনকী ওই বুথের যিনি BLO ছিলেন,তাঁর নামও ডিলিটেড লিস্ট চলে গিয়েছে। বিএলও নিজেও মুসলিম সম্প্রদায়েরই। 

BLO শফিউলের অভিযোগ, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে সবার নাম যাতে তালিকায় ওঠে, তার জন্য সব রকমের নথি জোগাড় ও প্রক্রিয়া ঠিক মতো করেছেন। সব নথি আপলোড করেছেন কমিশনের নির্দেশ মেনে। ৩৫৪ জনের মধ্যে যাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল, তাঁদেরই নাম ডিলিট করা হয়েছে। কারণ সবাই মুসলিম। এই কারণেই নাম বাতিল করা হল। শফিউল আলমের কথায়, 'এমনকী আমার নামও সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাতে শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ভোটার আমার বাড়িতে জড়ো হয়েছেন। শফিউল ৩৪০ জন বাদ পড়া নামের তালিকা নিয়ে বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বিডিও-র (BDO) কাছে গিয়েছি, কিন্তু বিডিও আমাকে জানান, তার স্তরে আর কিছুই করার নেই। এরপর আমি ইআরও-র (ERO) সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু সেখান থেকেও কোনও সাড়া বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।' 

মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৯৯২ জন

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ব্লক ২ এর বেগমপুর বিবিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরা গ্রামের ৫ নম্বর বুথে এই ভোটার তালিকা ঘিরে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৯৯২ জন। এর মধ্যে মৃত্যু বা স্থান পরিবর্তনের কারণে ৩৮ জনের নাম বাদ যায়। বাকি ৯৫৪ জনের মধ্যে ৩৫৮ জনকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। খসড়া তালিকায় মাত্র ১৮ জনের নাম নিষ্পত্তি করা হলেও, বাকি ৩৪০ জনের নাম বিচারাধীন রাখা হয়। কিন্তু ২৩ তারিখ প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা যায়, এই ৩৪০ জনের নামই চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

 শতাধিক ভোটার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক ভোটার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। বুথ লেভেল অফিসার (BLO) শফিউল আলম জানান, তিনি বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোনও সুরাহা পাননি এবং এখন ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই।

প্রভাবিত ভোটারদের একজন কাজিরুল মণ্ডল অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ১১টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দিলেই যথেষ্ট ছিল। তাঁর কথায়,  'আমরা ৩-৪টি নথি জমা দিয়েছি, তবুও আমাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চাপে কমিশন কাজ করছে এবং তাদের চাহিদা মেটাতেই আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।'

POST A COMMENT
Advertisement