ভবানীপুরে বাদ পড়া ভোটারদের ৪০ শতাংশই মুসলিম, চাঞ্চল্যকর তথ্য

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট ৩,৮৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১,৫৫৪ জন মুসলিম এবং ২,৩২১ জন হিন্দু, জৈন ও শিখসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের। সংখ্যার বিচারে অ-মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হলেও, জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিম ভোটারদের বাদ পড়ার হার অনেকটাই বেশি, যা নিয়েই বিতর্ক।

Advertisement
ভবানীপুরে বাদ পড়া ভোটারদের ৪০ শতাংশই মুসলিম, চাঞ্চল্যকর তথ্যমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • ভোটের মুখে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
  • একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পর এই কেন্দ্রে যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম।

ভোটের মুখে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পর এই কেন্দ্রে যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম। অথচ ভবানীপুরের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশই মুসলিম, ফলে এই অসামঞ্জস্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট ৩,৮৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১,৫৫৪ জন মুসলিম এবং ২,৩২১ জন হিন্দু, জৈন ও শিখসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের। সংখ্যার বিচারে অ-মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হলেও, জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিম ভোটারদের বাদ পড়ার হার অনেকটাই বেশি, যা নিয়েই বিতর্ক।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভবানীপুরে মোট ভোটার ছিল ১,৫৯,২০১ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু, ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিম ভোটার ছিলেন। কিন্তু সংশোধন প্রক্রিয়ার পর বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিমদের অনুপাত সেই জনসংখ্যার তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা কমলেও, ‘নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া’র আওতায় বহু নাম ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বানানের সামান্য ভুল বা পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি, এ ধরনের অস্পষ্ট কারণ দেখিয়েও বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে নন্দীগ্রামের উদাহরণ সামনে আসার পর। সেখানে নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ভবানীপুর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র, যেখানে তিনি আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ের ঘোষণা করেছেন। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যা আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement