বর্ডার ঘেঁষা ১০ জেলার বাদ পড়া ভোটারের ৭০ শতাংশই মুসলিম, TMC-BJP জোর লড়াইয়ের ইঙ্গিত

বাংলায় ‘এসআইআর’ অভিযান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের জেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ৯০.৮২ লক্ষ নামের মধ্যে ৫৭ শতাংশেরও বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ১০টি জেলার বাসিন্দাদের। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম বলে দাবি করা হচ্ছে।

Advertisement
বর্ডার ঘেঁষা ১০ জেলার বাদ পড়া ভোটারের ৭০ শতাংশই মুসলিম, TMC-BJP জোর লড়াইয়ের ইঙ্গিত
হাইলাইটস
  • বাংলায় ‘এসআইআর’ অভিযান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।
  • নির্বাচন কমিশনের জেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ৯০.৮২ লক্ষ নামের মধ্যে ৫৭ শতাংশেরও বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ১০টি জেলার বাসিন্দাদের।

বাংলায় ‘এসআইআর’ অভিযান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের জেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ৯০.৮২ লক্ষ নামের মধ্যে ৫৭ শতাংশেরও বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ১০টি জেলার বাসিন্দাদের। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম বলে দাবি করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকেই প্রায় ৫২.২৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তুলনামূলকভাবে রাজ্যের অন্য জেলাগুলোর তুলনায় এখানকার ভোটারদের অনেকেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে এই তথ্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই জেলাগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২১ সালে ১৫১টি আসনের মধ্যে ১১০টি দখল করেছিল তৃণমূল, আর বিজেপি পেয়েছিল ৪১টি আসন। ২০২৪ সালেও এই অঞ্চলের বেশিরভাগ আসনে এগিয়ে ছিল তৃণমূল।

এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কথায়, 'এই জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার পর চিত্র বদলাতে পারে। কারণ বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশই মুসলিম, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের মূল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে অনেক আসনেই এবার লড়াই কঠিন হতে পারে।'

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে এই ১৫১টি আসনের মধ্যে ২১টিতে তৃণমূল ২০ হাজারের কম ভোটে জিতেছিল। ২০২৪ সালে এমন আসনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১-এ। গড়ে প্রতিটি আসনেই ৩০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কলকাতাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালে শহরের ১১টি আসনেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ২০২৪ সালে ৯টিতে এগিয়ে থাকলেও ২টিতে এগিয়ে যায় বিজেপি। এই ৯টির মধ্যে ৫টিতে ব্যবধান ছিল ২০ হাজারের কম। ভবানীপুর, রাসবিহারী, চৌরঙ্গি, মানিকতলাকাশীপুর-বেলগাছিয়া, এই কেন্দ্রগুলিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয়ের ব্যবধানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সাত-আটটি আসনে ফলাফল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি বিজেপির প্রচারেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

এক বিজেপি নেতার কথায়, 'যদি এত সংখ্যক নাম সীমান্তবর্তী জেলা থেকে বাদ পড়ে, তবে আমাদের বক্তব্যই আরও জোরদার হবে।'

সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী নির্বাচনে এর প্রতিফলন কতটা পড়বে, এখন সেটাই দেখার।

 

POST A COMMENT
Advertisement