Bhabanipur: ভবানীপুরে ৬০ হাজার লিড চাইছেন অভিষেক, হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রগুলিতে টার্গেট কমাচ্ছে তৃণমূল?

মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইয়ে কত লিডে জিতবে তৃণমূল, তার টার্গেট সেট করে ফেললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬০ হাজার লিড চাইছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণত সম্পাদক। তবে কি এবার প্রেস্টিজ ফাইটের এই কেন্দ্রে ব্যবধানের টার্গেট কমিয়ে ফেলছে তৃণমূল?

Advertisement
 ভবানীপুরে ৬০ হাজার লিড চাইছেন অভিষেক, হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রগুলিতে টার্গেট কমাচ্ছে তৃণমূল? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
হাইলাইটস
  • ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধানের টার্গেট সেট করে ফেললেন অভিষেক
  • ৬০ হাজার লিড চাইছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণত সম্পাদক
  • প্রেস্টিজ ফাইটের এই কেন্দ্রে ব্যবধানের টার্গেট কমিয়ে ফেলছে তৃণমূল?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব ঘাঁটি ভবানীপুরে রবিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এবারের বিধানসভায় তৃণমূল নেত্রীর জয় নিশ্চিত করতে ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতার টার্গেট সেট করে দিলেন তিনি। 

এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই ক্লোজড ডোর মিটিংয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুথ স্তরের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, 'ভবানীপুরকে কলকাতার মধ্যে প্রথম স্থানে নিয়ে যেতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতেই হবে।' একইসঙ্গে তিনি কর্মীদের সতর্ক করে জানান, এই কেন্দ্রকে শক্ত ঘাঁটি মনে করে আত্মতুষ্টিতে ভোগা চলবে না। আর সেখানেই রাজনৈতিক কারবারিদের প্রশ্ন, জেতার ব্যবধানের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভবানীপুরে? শুভেন্দু প্রার্থী হওয়ায় ভবানীপুরে টাফ ফাইট হবে বলেই মনে করছে দল? মমতার কেন্দ্রেই যদি ব্যবধান কম রাখা হয় তাহলে কলকাতার বাকি তৃণমূলের দখলে থাকা আসনগুলির ব্যবধান কত ধরছেন অভিষেক? 

স্থানীয় কাউন্সিলর, বুথ কর্মী এবং সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন অভিষেকের বৈঠকে। ছিলেন রাজ্য TMC সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি দেবাশিস কুমার সহ অন্যান্য নেতারা। 

অভিষেক জানান, ভবানীপুরে মোট ২৮৭টি বুথ রয়েছে। আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে লড়ে ২৩১টি বুথে জিতেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বাড়িতে অন্তত ২৩২ বুথে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বুথ সভাপতিদের সতর্ক প্রহরী হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ভুলে সংগঠনের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে ৫৮ হাজার ৮০০-র বেশি ভোটে জিতেছিলেন।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক বদলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, 'গত ৩ দিনে ৫০ জন অফিসারকে সরানো হয়েছে। কিছু হলে নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্যানিশ কুমারকে দায় নিতে হবে।'

Advertisement

তিনি জানান, SIR তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়বে, তাদের আইনি সহায়তা করবে দল। সূত্রের খবর, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভবানীপুরে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে দল উদ্বিগ্ন। 

ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন এবং ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর উপনির্বাচনে আবারও এখানে ফিরে আসেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে ভবানীপুর উপনির্বাচনে দাঁড়ান এবং জয়ী হন। 

যদিও এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল এবারের লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী মালা রায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তবে বেশ কিছু ওয়ার্ডে BJP তাদের প্রভাব বাড়িয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে রবিবারের বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং আসন্ন নির্বাচনে কোনওরকম ঢিলেমির সুযোগ না রাখা। 

 

POST A COMMENT
Advertisement