Adhir Ranjan Chowdhury: সেই ১৯৯৬, তারপর ২০২৬, ৩ দশক পর বিধানসভা ভোটে অধীর, সে বার কী হয়েছিল?

Adhir Ranjan Chowdhury: সত্তরের দশক। অশান্ত বাংলা। নকশাল আন্দোলনে(Naxalite movement) তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঠিক সেই সময়েই বঙ্গ রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় মুর্শিদাবাদের এক যুবকের। গড়ে ওঠে লড়াই, প্রতিবাদ, আন্দোলনের রাজনৈতিক চেতনা।

Advertisement
সেই ১৯৯৬, তারপর ২০২৬, ৩ দশক পর বিধানসভা ভোটে অধীর, সে বার কী হয়েছিল?Adhir Ranjan Chowdhury: অধীররঞ্জন চৌধুরি কি লোকসভা পরাজয়ের ক্ষত কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?
হাইলাইটস
  • রাস্তায়, মিছিলে, উত্তাল সময়ের মধ্যে দিয়েই রাজনৈতিক কেরিয়ারের ভিত গড়ে তোলেন। 
  • বহরমপুর কেন্দ্র থেকে অধীরকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।
  • ২০২৬-এর নির্বাচন কি অধীর কাহিনীর নতুন অধ্যায় হতে চলেছে?

Adhir Ranjan Chowdhury: সত্তরের দশক। অশান্ত বাংলা। নকশাল আন্দোলনে(Naxalite movement) তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঠিক সেই সময়েই বঙ্গ রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় মুর্শিদাবাদের এক যুবকের। গড়ে ওঠে লড়াই, প্রতিবাদ, আন্দোলনের রাজনৈতিক চেতনা। নাম অধীররঞ্জন চৌধুরি। রাস্তায়, মিছিলে, উত্তাল সময়ের মধ্যে দিয়েই রাজনৈতিক কেরিয়ারের ভিত গড়ে তোলেন।  আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে পরবর্তী জীবনে করে তোলে অ'ধীর'।  

রবিবার কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়। বহরমপুর কেন্দ্র থেকে অধীরকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। লোকসভা রাজনীতির দীর্ঘ অধ্যায়ের পর আবার রাজ্যের মাটিতে ফিরে আসছেন অধীর। অনেকেই বলছেন, এ কেবল প্রার্থী ঘোষণা নয়। এ যেন এক রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প।
सुशांत मामले में अधीर रंजन बोले- BJP ने केवल चुनावी माइलेज के लिए देश के  एक्टर को बिहारी स्टार बनाया - Sushanth Singh Rajput case congress leader Adhir  Ranjan Chowdhury ...

অধীরের নকশাল আন্দোলনের টালমাটাল জীবন থিতু হয় রাজীব গান্ধীর আমলে। কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু তখনও সামনে দীর্ঘ লড়াই। ১৯৯১ সালে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়েন। সেই সময় বাংলায় বাম শিবির মধ্য গগনে। ভোটের দিন বেরিয়ে প্রায় ৩০০ জন সিপিএম কর্মীর হামলার মুখে পড়েছিলেন অধীর।অভিযোগ, তাঁকে রীতিমতো ঘিরে ফেলা হয়। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন তাঁকে আটকে রাখে। কোনওমতে প্রাণ হাতে নিয়ে পালান অধীর। সেই নির্বাচনে জয় মেলেনি। কিন্তু হার ছিল খুব কম ভোটের ব্যবধানে। আর ঠিক সেখান থেকেই ফের লড়াইয়ের মনোভাব গড়ে ওঠে অধীরের।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
১৯৯৬-এ আবার নবগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী হন। মাঝের পাঁচ বছরে লাগাতার জনসংযোগ, সংগঠনে মনপ্রাণ সঁপে দেন। মেলে ফলও। সেই বার ২০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জেতেন।  

অধীরের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার খবর পৌঁছে যায় দিল্লির মসনদেও। ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। জেতেনও। আর তার মাধ্যমেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। এরপর টানা ২৫ বছর; একই আসনে সাংসদ ছিলেন অধীর। এই ২৫ বছরে ক্রমেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব  বেড়েছে। জেলা স্তরে সংগঠন গড়েছেন, পঞ্চায়েত থেকে জেলায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী করেছেন।
RSS मुख्यालय पर कब फहरेगा तिरंगा...', मोहन भागवत से अधीर रंजन चौधरी का सवाल  - mohan bhagwat rss adhir ranjan chowdhury tiranga over rss headquarter NTC  - AajTak

Advertisement

দিল্লির মঞ্চে অধীর
রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের(Manmohan Singh) মন্ত্রিসভায় রেল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ থেকে ২০২৪; এই সময় লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। একই সঙ্গে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। সোমেন্দ্রনাথ মিত্রর(Somendra Nath Mitra) মৃত্যুর পর কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেছিলেন।

২০২৪-এ ধাক্কা 
তবে রাজনীতির পথ মসৃণ হয় না। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের(Yusuf Pathan) কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। এর পরপরই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়েন।

বিশ্লেষকরা বলথেন, এখানেই গল্পের শেষ নয়। বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হতে চলেছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর থেকেই ফের লড়াইয়ে নামছেন অধীর।  

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অভিজ্ঞতা, সংগঠন এবং জনসংযোগ; এই তিন শক্তিকেই ভর করে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। ২০২৬-এর নির্বাচন কি অধীর কাহিনীর নতুন অধ্যায় হতে চলেছে? তার উত্তর সময়ই দেবে। 

POST A COMMENT
Advertisement