BJP-র ইশতেহারে UCC লাগুর ঘোষণা বংলায় ক্ষমতায় এলে ৬ মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করবে BJP। শুক্রবার শহরে এসে 'সংকল্প পত্র' অর্থাৎ ইশতেহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেই ইশতেহারেই Uniform Civil Code (UCC) কার্যকর করার কথা ঘোষণা করে বড় চমক দিলেন তিনি। কী এই UCC? বাংলায় লাগু হলে কী কী নিয়ম চালু হতে পারে?
কী এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি?
UCC অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অর্থাৎ সব ধর্মের মানুষের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, জমি-সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অভিন্ন আইন চালু থাকে এই বিধি অনুযায়ী। ধর্ম নির্বিশেষে পুরুষদের বহুবিবাহ বন্ধ এবং ‘লিভ ইন’ সম্পর্ক নথিভুক্ত করাকে আইনের আওতায় আনা হয়। একইসঙ্গে যদি কোনও নারী-পুরুষ ‘লিভ ইন’ করতে চান, তবে অবশ্যই পুলিশ বা জেলা আধিকারিকদের অনুমতি নিতে হয়। যদি তাঁদের বয়স ২১ বছরের নীচে হয়, তবে বাবা-মায়ের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে এই বিধির আওতায়। তেমনটা না হলে দু’জনেরই জরিমানা এবং জেল হয়। এই ধরনের সম্পর্কে থাকাকালীন সন্তানের জন্ম হলে সে বাবা ও মা, উভয়ের উত্তরাধিকার লাভ করে। ধর্ম নির্বিশেষে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর করা হয়েছে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে। মুসলিম-সহ সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য বিয়ে রেজিস্ট্রি বা নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হয়েছে এই বিধিতে।
তবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আদিবাসীদের ক্ষেত্রে লাগু হয় না। জন্ম, বিয়ে, উত্তরাধিকার, নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে আদিবাসী সমাজের নিজস্ব বিধান চালু থাকে।
UCC নিয়ে বিতর্ক কেন?
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সংবিধান প্রণয়নের কাল থেকেই বিতর্ক চলছে। ২০২৪ সালে উত্তরাখণ্ডই দেশের একমাত্র রাজ্যে যেখানে UCC কার্যকর হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন এই আইন নিয়ে। যে বিধির পরিধি থেকে তফসিলি উপজাতিদের এবং ‘অবিভক্ত হিন্দু পরিবার’কে সরিয়ে রাখা হয়েছে সেটা কতটা ‘অভিন্ন’, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিস্তর।
সমাজের একাংশ মনে করেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লিভ ইন সম্পর্কের মতো একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের আইনি নিশ্চয়তাকে নাকচ করে। যা সংবিধান প্রদত্ত নাগরিকদের গোপনীয়তা, আত্মমর্যাদা আর ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের পরিপন্থী।