নবীন বিশ্বাস, তাঁর বাড়িতেই ২০২১-এ শাহের মধ্যাহ্নভোজসময়টা ২০২১। ৫ বছর আগে বাংলায় এসে এক মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির বাড়িতে পাত পেড়ে খেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৫ বছর পর SIR প্রক্রিয়ায় সেই নবীন বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের নাম নাকি বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তৃণমূলের তরফে এ কথা প্রচার করা হয়। রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে পোস্টও করা হয়। সত্যিই কি ডিলিটেড এই মতুয়া সম্প্রদায়ের ব্যক্তির নাম? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in.
নবীন বিশ্বাসের নাম বাদ?
রাজারহাট নিউটাউনের বাসিন্দা এবং মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্য নবীন বিশ্বাস বলেন, 'এটা ভুল খবর। এ তথ্য সঠিক নয়। আমার এবং আমার স্ত্রী নাম ডিলিট হয়নি। পরিবারের কোনও সদস্যদের নামই ডিলিট হয়নি।'
কেন BJP-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ?
নাম বাদ পড়েনি, তা সত্ত্বেও কেন BJP-র বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ? এ প্রসঙ্গে নবীন বলেন, 'আমার নাম বাদ পড়েনি, কিন্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ, বহু উদবাস্তু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। আমার প্রতিবাদ সে জায়গাতেই।' ৫ বছর আগে তাঁর ঘরে পাত পেড়ে বসে অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ মধ্যাহ্নভোজে সারলেও কোনওদিন সরাসরি BJP-তে যোগদান করেননি নবীন। তবে তিনি মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্য।
'শাহী' ভোজ
নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে পাত পেড়ে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছিলেন অমিত শাহ। নবীনের স্ত্রী সুচন্দ্রা নিজের হাতে রান্না করেছিলেন বাসমতি চালের ভাত, সোনামুগ ডাল, ছোলার ডাল, আটার রুটি। ওই রকম হাই প্রোফাইল একজন অতিথিকে আপ্যায়ন করতে পেরে খুশিতে ডগমগ হয়েছিলেন নবীন ও সুচন্দ্রা। তবে সেই খুশিই এখন বদলে গিয়েছে ক্ষোভে। কিন্তু কেন?
BJP-র প্রতি মোহভঙ্গ কেন?
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, সেরকম প্রচুর মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এমন অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। দাবি নবীন বিশ্বাসের। তাঁর কথায়, 'আমরা যাঁরা মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, তাঁদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, SIR হলেও কোনও মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়া হবে না। নমশূদ্রদের নাম বাদ যাবে না। বাদ পড়বে কেবল রোহিঙ্গা ও মুসলমিদের। বাস্তব ক্ষেত্রে সেটা হল না। ১৫-২০ বছর ধরেযে মতুয়া, উদবাস্তুরা ভোট দিয়ে এসেছে, তাঁদের নাম বাদ গেল।' শান্তনু ঠাকুর, এমনকী অমিত শাহের প্রতিও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ যে BJP-র বিরুদ্ধেই এবার ভোট দেবে, তা কার্যত স্পষ্ট করে দেন নবীন।
তিনি আরও বলেন, 'BJP প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকারে আসলে দেশভাগের বলি ছিন্নমূল উদবাস্তুদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেবে আসলে হয়েছে ঠিক এর বিপরীত। SIR-এর নাম করে, নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আমাদের মতুয়া উদবাস্তুদের নাম বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক আমাদের কাছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।'
রাজারহাট–নিউ টাউন, রাজারহাট–গোপালপুর, বিধাননগর বিধানসভা মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার মতুয়া ভোটারের নাম তালিকা থেকে ডিলিট হয়েছে। নাম তোলার ক্ষেত্রে BJP বা অন্য কোনও দলের পক্ষ থেকেই তাঁরা সাহায্য করেনি বলে জানিয়েছেন নবীন বিশ্বাস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁর নাম ডিলিট হয়ে যাওয়ার খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা অবশ্য ঠাওর করতে পারছেন না এই মতুয়া নেতা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের বিধাননগর পুরসভার নির্বাচনে CPIM প্রার্থী হয়েছিলেন এই নবীন বিশ্বাস। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী শিবনাথ ভাণ্ডারীর কাছে হেরে যান তিনি। এখন অবশ্য নবীন তৃণমূল করেন বলে দাবি BJP-র।