হলফনামায় নিজেই জানালেন সব মামলার কথাসোমবার নন্দীগ্রাম আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের নিশ্চিত জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। সোমবার দেওয়া হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচারাধীন ২৫টি ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন শুভেন্দু। প্রসঙ্গত, ২০১৬ ও ২০২১ সালের পর এবার ফের নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে বড় ফারাক রয়েছে এ বার।
২০১৬ সালে কোনও মামলা ছিল না
জোড়াফুলের বদলে গতবারই পদ্ম প্রতীকে লড়েছিলেন শুভেন্দু। সোমবার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার হিসেবও ঘোষণা করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে তৃণমূলের হয়ে লড়ার সময় শুভেন্দু হলনামায় জানিয়েছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১,৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। উল্লেখ্য , ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মাত্র একটি মামলা ছিল, যেখানে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ২৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ২৫টি মামলা
গত ৫ বছরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। একাধিকবার শুভেন্দু নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একাধিকবার তাঁকে কোর্টে যেতে হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের অধীনে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে ২৫টি ফৌজদারি মামলা। কলকাতা হাইকোর্টে সম্প্রতি এমনই একটি রিপোর্ট জমা দেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। শুধু তাই নয়, এর আগেও কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, কলকাতা পুলিশের আওতায় ৭ টি ফৌজদারি ধারায় মামলা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার কথা মেনে নিয়েছেন শুভেন্দুও। হলফনামায় মানহানি, অর্থ পাচার, শত্রুতা উস্কে দেওয়া এবং দাঙ্গার মতো ফৌজদারি মামলার উল্লেখ রয়েছে। এই সমস্ত মামলা ২০২১ সালের পরের, যখন শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
মামলার তালিকা ও এই অভিযোগগুলো অন্তর্ভুক্ত:
শুভেন্দু বলছেন
আজতকের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, মনোনয়নপত্র দাখিল করার সময় তিনি তাঁর হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ২৫টি ফৌজদারি মামলার তালিকা ও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এগুলো সবই সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তিনি তাঁর হলফনামায় এও জানিয়েছেন যে, তিনি কোনও ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হননি।
কোথায় কোথায় মামলা?
শুভেন্দুর হলফনামার ১৯-২০টি পাতা জুড়ে রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একের পর এক মামলা। গড়বেতা, চাঁচল, খড়গপুর, খড়দা, লালগড়, সাঁকরাইল, জামবনি, ঝাড়গ্রাম, বেলেঘাটা, বউবাজার, ভূপতিনগর, হেয়ার স্ট্রিট, দুর্গাচক, আলিপুরদুয়ার, কুলটি, পাঁশকুড়া, ময়দান, কাঁধি, জোড়াসাঁকোর থানায় অভিযোগ রয়েছে শুভেন্দুর নামে। এগুলির একাধিক কেস বিভিন্ন লোয়ার কোর্টে চলছে। আদিবাসীদের অসম্মান, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, আর্থিক দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক হিংসার চেষ্টা, খুনের চেষ্টা এমনকী পকসো কেসেও অভিযুক্ত শুভেন্দু।
তবে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর হলফনামায় ঘোষণা করেছেন, তিনি কোনও মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত হননি। দায়ের করা মামলার অধিকাংশই গ্রামীণ নির্বাচনী এলাকা ও জেলাগুলিতে। শহুরে নির্বাচনী এলাকাগুলিতে তুলনামূলকভাবে কম মামলা রয়েছে। তাঁর মনোনয়ন হলফনামায় শুভেন্দু নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে বিধায়ক বেতন, সাংসদ পেনশন ও ব্যবসাকে তালিকাভুক্ত করেছেন—আয়কর রিটার্নে ঘোষিত তাঁর মোট বার্ষিক আয় ১৭,৩৮,৫০০ টাকা। উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে লোকসভার সাংসদ ছিলেন এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অংশ হিসেবে পরিবহন ও সেচ দফতরের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।