তৃণমূলের অভিযোগ, ব্যাগভর্তি নথি নিয়ে একদল ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। TMC alleges bulk submission: সোমবারই ফর্ম সিক্স জমা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। তার পরের দিন ফের একই অভিযোগে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের অভিযোগ, ব্যাগভর্তি নথি নিয়ে একদল ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। আর সেই দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল সিইও অফিস চত্বরে। এদিন দুপুর থেকেই সিইও দফতরের সামনে বিএলওদের একাংশও বিক্ষোভ শুরু করেন। এসে পৌঁছায় বিজেপি কর্মীরাও। সব মিলিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন হয় পুলিশের বিশাল বাহিনী।
তৃণমূলের দাবি, ওই ব্যাগে থাকা নথিগুলির মধ্যে বহু ফর্ম সিক্সের মতো নথি রয়েছে। এই ফর্ম ব্যবহার করেই নতুন ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে তৎক্ষণাৎ বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের দাবি, এইভাবে নির্দিষ্ট করে ফর্ম জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার এই নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও(Mamোata Banerjee)। পশ্চিম মেদিনীপুরের জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেন। বলেন, 'সব কিছু বিজেপির ইচ্ছা মতো চলতে পারে না। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।' তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। সেই ফাঁক পূরণ করতেই বাইরে থেকে লোক এনে নাম তোলার চেষ্টা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, '৩০ হাজার নতুন ফর্ম জমা পড়েছে। অথচ আগের বহু নাম এখনও তোলা হয়নি। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানার মতো রাজ্য থেকে লোক এনে ভোটার বানানোর চেষ্টা চলছে।' এমনকি ট্রেনে করে লোক এনে খড়গপুর, আসানসোলের মতো এলাকায় ভোট দেওয়ানোর পরিকল্পনার অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, 'এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করব।'
গোটা ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র(Mahua Moitra)। তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, 'লজ্জাজনক! বিজেপি নেতারা আবারও গোছা-গোছা ফর্ম জমা দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন।'
সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হয়েছে তৃণমূল(All India Trinamool Congress)। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অন্য রাজ্য থেকে ভোটার এনে বাংলার জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। 'প্রথমে আপনার নাম কাটা হবে, তারপর অন্য কারও নাম বসানো হবে,' লেখা হয়েছে পোস্টে।