ভোট বাংলায় এবার ১৫ দিন থাকবেন, ভবানীপুরে ‘শর্টকাট’ও দিলেন শাহদক্ষিণ কলকাতার রাজনীতির ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে আজ শক্তিপ্রদর্শনে নেমেছে গেরুয়া শিবির। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক গড় হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে আজ মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর মনোনয়ন দাখিলে উপস্থিত থাকতে বুধবার মধ্যরাতেই কলকাতায় আসেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন হাজরা মোড় থেকে শুভেন্দুকে নিয়ে রোড শোও করেন শাহ। রোড শো শেষে সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী। তার আগেই বড় কথা বলে দিলেন অমিত শাহ। জানিয়ে দিলেন,'পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ১৫ দিন আমি এ রাজ্যেই থাকব। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার অনেক সুযোগ পাব। আজ আমাদের প্রার্থীদের, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের জন্য আমি এসেছি।'
শর্টকাট দিলেন শাহ
ভবানীপুরবাসীর উদ্দেশে পরিবর্তনেক ডাক দিয়ে শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না? আমি হাত জোড় করে বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল জনমতে জয়ী করুন।' কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'একটা একটা করে আসন জিতে আমরা ১৭০ আসনে পৌঁছোব। তবেই তো পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমার কাছে শর্টকাট আছে। ভবানীপুরবাসী একটি আসন জেতালেই পরিবর্তন নিজে থেকেই হয়ে যাবে।' সেইসঙ্গে শাহ বলেন, 'আমাদের শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চাইছিলেন। আমি শুভেন্দুদাকে বললাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়। মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে। আর ওনার তো রেকর্ড আছেই। গত ভোটে মমতা পশ্চিমবঙ্গে সরকার তো গড়েছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এ বার মমতা গোটা রাজ্যে তো হারবেনই, ভবানীপুরেও হারবেন।'
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের লড়াইকে বিজেপি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, শুভেন্দুর মনোনয়ন পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিই তার বড় প্রমাণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার পর এবার খাস কলকাতায় মমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন শুভেন্দু। দলের অন্দরের খবর, শুভেন্দুর হয়ে প্রচারে আসতে পারেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
গতকাল মাঝরাতেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন অমিত শাহ। আজ বিকেলেই তিনি এই হাইভোল্টেজ কর্মসূচি শেষ করে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। উল্লেখ্য, একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪০ হাজার ভোটার বাতিলের অভিযোগে সরব, ঠিক তখনই খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে শুভেন্দুর এই মনোনয়ন পেশের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল।