অভিযোগ, ডিউটিরত অবস্থায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে ক্যারাম খেলছিলেন তাঁরা।Suri Birbhum carrom controversy: বীরভূমের সিউড়িতে ৩ জওয়ানকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, ডিউটিরত অবস্থায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে ক্যারাম খেলছিলেন তাঁরা। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। এরপরেই কড়া পদক্ষেপ নিল Election Commission of India। তিন জওয়ানকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি শুরু হল বিভাগীয় তদন্ত।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল পার্টি অফিসের ভিতরে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে কয়েকজন বসে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইউনিফর্ম পরা তিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও রয়েছেন বলে অভিযোগ। বাইরে আরও কয়েকজন জওয়ান বসে ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনার জেরে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা থাকলেও, এই ধরনের আচরণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এহেন প্রেক্ষাপটে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডিউটিরত অবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে সময় কাটানো যাবে না। কোনও ধরনের ‘আতিথেয়তা’ গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্দেশ অমান্য করায় তিন জওয়ানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)। বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত যথাযথ। তাঁর কথায়, 'নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।' একই সুর বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের(Locket Chatterjee) বক্তব্যেও। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা সামনে এলে তা দ্রুত নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর আগেও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাতেও কড়া ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন। কয়েকজনকে প্যারামিলিটারি হেফাজতে রাখা হয়। সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়। পরে অন্য রাজ্যে বদলিও করা হয়।
কমিশন সূত্রে খবর, এবারের নির্বাচনে কোনও ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক স্তরে ইতিমধ্যেই রদবদল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; ডিউটির সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
সিউড়ির ঘটনা সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কমিশনের এই পদক্ষেপে একটি বিষয় স্পষ্ট। ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের শিথিলতা বা বিতর্ক তৈরি হলে, তাৎক্ষণিক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।