বাংলার ভোট ২০২৬একটা সময় এ রাজ্যে বিজেপিকে বলা হত বড়বাজারের দল। যদিও আসন বা ভোটে তার প্রতিফলন ঘটত না। ২০১৪ সাল থেকে খেলা ঘোরে। ওই লোকসভা ভোটে বিজেপি উঠে আসে দ্বিতীয়স্থানে। তার পর থেকে তাদের ভোটের হার ক্রমবর্ধমান। গত লোকসভা ভোটে জোড়াসাঁকো এবং শ্যামপুকুর বিধানসভা আসনে এগিয়েছিল বিজেপি। এবার নির্বাচনের আগে সন্তোষ পাঠকের মতো মধ্য কলকাতার প্রভাবশালী নেতাকে দলে নিয়ে বড় চাল দিল তারা।
রাজ্যে ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছতে গেলে কলকাতা ও তার আশেপাশের আসনগুলি জেতা দরকার। ২০২১ সালে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় একটাও আসন জেতেনি বিজেপি। ২০২৪ সালে কলকাতায় পদ্ম ফোটে। লোকসভা ভোটে ৭টি আসনের মধ্যে দু'টিতে এগিয়েছিল গেরুয়া শিবির। একটা জোড়াসাঁকো, অন্যটা শ্যামপুকুর। সেই ২০১১ সাল থেকে শ্যামপুকুরের বিধায়ক শশী পাঁজা। এবারও তিনিই প্রার্থী। অন্যদিকে, বিজেপির বাজি পূর্ণিমা চক্রবর্তী। জোড়াসাঁকো আসনে গতবার জিতেছিলেন বিবেক গুপ্তা। এবার প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। এবার ঘাসফুল প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন বিজয় উপাধ্যায়। বিজেপির প্রার্থী বিজয় ওঝা।
উত্তর কলকাতায় মানিকতলা আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছে তাপস রায়। ২০১১ সাল থেকে আসনটি জিতে আসছিলেন তৃণমূলের সাধন পাণ্ডে। তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে প্রার্থী হন স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডে। এবার প্রার্থী সাধন-কন্যা শ্রেয়া। উত্তর কলকাতার প্রবীণ নেতা তাপস রায়। জনভিত্তিও রয়েছে। সেই তাপসকে লোকসভার পর বিধানসভাতেও নামিয়ে দিয়েছে বিজেপি।
নির্বাচনের ঠিক মুখে কংগ্রেস নেতা সন্তোষ পাঠক যোগ দিলেন বিজেপিতে। কলকাতা পুরসভার কয়েক দশকের কংগ্রেস কাউন্সিলর। বাংলায় কংগ্রেসের এমন 'খরা'র মাঝেও তিনি ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড ধরে রেখেছেন। তাঁকে চৌরঙ্গী আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে খবর। সন্তোষ পাঠককে যোগদান করিয়ে উত্তর কলকাতায় নিঃসন্দেহে শক্তি অনেকটা বাড়াল বিজেপি।