শিশির বাজোরিয়া, তাপস রায়, জ্ঞানেশ কুমার, মহম্মদ সেলিম১ দফায় ভোট চাইছে BJP। সর্বোচ্চ ২ দফায় ভোট হলে আপত্তি নেই বামেদের। সোমবার নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর টিমের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে এমনটাই জানিয়েছে দুই দলের প্রতিনিধিরা। BJP-র প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং শিশির বাজোরিয়া। CPIM-এর তরফে দেখা করলেন, মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ি।
BJP-র সঙ্গে কী আলোচনা হল বৈঠকে?
BJP-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এদিন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে SIR নিয়ে তাঁদের কোনও আলোচনা হয়নি। কেবল নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘SIR নিয়ে আমরা আলোচনা করিনি। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে মামলা আছে। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা মানতে বাধ্য। আজ বৈঠকে শুধু ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছি।’
তাপস রায় বলেন, ' গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হয়নি। কমিশনের দায়িত্ব এই রাজ্যে গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা। মমতা এবং তাঁর দলবল এখনও ভয় দেখাচ্ছে।' জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কেটে নেওয়ার কথা বলেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সে প্রসঙ্গও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তাপস। তিনি বলেন, 'জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কাটা মানে তো সংবিধানেরই আঙুল কাটা। তৃণমূলের এত বড় আস্পর্ধা হয়েছে। আমরা হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।'
পাশাপাশি শিশির বাজোরিয়া বলেন, 'রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় আমরা অসন্তুষ্ট। তা কমিশনকে জানিয়েছি। আমরা চাই, প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় ভোট হোক। ওয়েব ক্যামেরা থাকুক। কোথাও ক্যামেরা খারাপ হয়ে গেলে ভোট বন্ধ রাখতে হবে অথবা পুনর্নির্বাচন করাতে হবে। বুথে ঢোকার আগে সকলের পরিচয় যাচাই করতে হবে। কোনও পুলিশ বা দলের এজেন্ট সেখানে থাকবেন না।'
জানা গিয়েছে, এদিন কমিশনের কাছে মোট ১৬ দফা দাবি রেখেছে BJP। তালিকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বেশি করে ব্যবহার করা, রিগিং ঠেকানোর মতো বিষয়গুলি।
কী দাবি CPIM-এর?
BJP-র পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও বৈঠক করছেন CEC জ্ঞানেশ কুমার। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বৈঠক করেছেন, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তাঁরাও ভয় মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর কথা বলেন।
বামেদের পক্ষ থেকে উপস্থিত হন মহম্মদ সেলিম এবং শমীক লাহিড়ি। SIR নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। মহম্মদ সেলিম বলেন, 'আমরা জানতে চেয়েছি কমিশন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানাল কেন? মানুষের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল? কেন নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল নির্যাতন কমিশন? ভোটের আগে তো তাদের নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে হবে।'
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, রাজীব কুমার, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।