BJP Targets 141 Seats: ভোটের আগে বড় অঙ্ক বিজেপির! বাংলায় ১৪১ আসনে বিশেষ নজর, আত্মবিশ্বাসী ৫২-তে

West Bengal Assembly Election 2026: সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। পুরোদমে রাজনৈতিক অঙ্ক কষছে বিজেপি(Bharatiya Janata Party)। লক্ষ্য একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা দখল।

Advertisement
ভোটের আগে বড় অঙ্ক বিজেপির! বাংলায় ১৪১ আসনে বিশেষ নজর, আত্মবিশ্বাসী ৫২-তেবিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আসনগুলোয় নজর বিজেপির।
হাইলাইটস
  • পুরোদমে রাজনৈতিক অঙ্ক কষছে বিজেপি(Bharatiya Janata Party)।
  • ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু আসনকে টার্গেট করে পরিকল্পনা শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।
  • ১৪১টি আসনের উপর বিশেষ নজর রেখেছে বিজেপি।

West Bengal Assembly Election 2026: সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। পুরোদমে রাজনৈতিক অঙ্ক কষছে বিজেপি(Bharatiya Janata Party)। লক্ষ্য একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা দখল। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু আসনকে টার্গেট করে পরিকল্পনা শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। তার মধ্যে ১৪১টি আসনের উপর বিশেষ নজর রেখেছে বিজেপি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসনগুলিতে বিজেপি হয় আগে এগিয়ে ছিল, নয়তো তুলনামূলকভাবে কম ব্যবধানে হেরেছে। বিজেপির বিশ্বাস, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারলে এই আসনগুলির বড় অংশ নিজেদের দখলে আনা সম্ভব। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার বক্তব্য, 'সবকটি আসনেই আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। জয়ের আসনগুলো তো ধরে রাখতেই হবে। আর বাকি আসনেও সমানভাবে জোর দিতে হবে।' SIR এর পর সমীকরণ বদলাবে বলেও ধারণা রাহুল সিনহার। 

এই ১৪১টি আসনের মধ্যে ৫২টিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, বিজেপির দলীয় বিশ্লেষণে এগুলি আলাদা করে দেখা হচ্ছে। মূলত এই আসনগুলিতেই বিজেপির সংগঠন ও ভোটব্যাঙ্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। ফলে সঠিক কৌশল নিলে এই আসনগুলিতে ভাল ফল পাওয়ার আশা করছে গেরুয়া শিবির।

এর পাশাপাশি আরও ৭টি আসন রয়েছে যেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা আলাদা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই আসনগুলিতে বিজেপি পিছিয়ে থাকলেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেখানে তারা এগিয়ে ছিল। এই আসনগুলির বেশিরভাগই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ওই জেলায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে।

দলীয় অঙ্কে আরও ৪৭টি আসনকে 'সুইং' আসন হিসেবে ধরা হয়েছে। এই আসনগুলিতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী নির্বাচনে সেই সমর্থন ধরে রাখা যায়নি। ফলে এই আসনগুলিকে ফের দখলে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।

Advertisement

তবে এই ১৪১টি আসনের সবকটিতে জয়ের সম্ভাবনা সমান নয়। বিশেষ করে শক্ত ঘাঁটি বা সুইং আসনের বাইরে থাকা সিটগুলিতে বিজেপির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে ওই ৩৫টি আসনে এগিয়ে থাকলেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই সমর্থন ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি।

রাজ্যের নির্বাচনী পরিসংখ্যানেও গত কয়েক বছরে বিজেপির ওঠানামা স্পষ্ট। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি জিতেছিল বিজেপি। সে সময় তাদের ভোটের হার ছিল প্রায় ৪০.৬ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির।

কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার নেমে যায় ১৮.৫ শতাংশের নিচে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভোটের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিজেপির তুলনায় তৃণমূলের ভোট শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়াই গেরুয়া শিবিরের ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। তৃণমূলের ভোটের হার ৪৩.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৮.৫ শতাংশে পৌঁছয়। এর ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা ৭৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা ভাল হলেও ২০১৯ সালের সাফল্যের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। পাশাপাশি ২০২১ সালের পর থেকে দলত্যাগ ও দলবদলের সমস্যাও ভুগিয়েছে বিজেপিকে।

তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, নরেন্দ্র মোদীর(Narendra Modi) জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে লড়াই করলে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। যেমন ওড়িশা এবং দিল্লিতে 'মোদী ফ্যাক্টরে'র উপর নির্ভর করেই সাফল্য পেয়েছে বিজেপি।

সেই কৌশলেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচারকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চাইছে বিজেপি। 

POST A COMMENT
Advertisement