রক্তদান শিবিরে কমিশনের নজরদারির জেরে বাংলায় রক্ত সঙ্কট? শহরজুড়ে পোস্টার

ভোট এলেই রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়ে, এ নতুন কিছু নয়। তবে এবারের ভোট ঘিরে এমন এক বিতর্ক সামনে এসেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যের উপর। তীব্র গরমের মধ্যে রক্তদান শিবির নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ‘নজরদারি’র ইঙ্গিত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

Advertisement
রক্তদান শিবিরে কমিশনের নজরদারির জেরে বাংলায় রক্ত সঙ্কট? শহরজুড়ে পোস্টাররক্তের আকাল।-নিজস্ব ছবি
হাইলাইটস
  • ভোট এলেই রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়ে, এ নতুন কিছু নয়।
  • তবে এবারের ভোট ঘিরে এমন এক বিতর্ক সামনে এসেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যের উপর।

ভোট এলেই রাজ্যের রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়ে, এ নতুন কিছু নয়। তবে এবারের ভোট ঘিরে এমন এক বিতর্ক সামনে এসেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যের উপর। তীব্র গরমের মধ্যে রক্তদান শিবির নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ‘নজরদারি’র ইঙ্গিত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে বাংলায় রক্তের সঙ্কট নতুন নয়। এই সময়টাতে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা কমে যায়, ফলে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে চাপ বাড়ে। সেই ঘাটতি মেটাতে বহু বছর ধরে বিভিন্ন ক্লাব ও অরাজনৈতিক সংগঠন এগিয়ে এসে পাড়ায় পাড়ায় রক্তদান শিবির আয়োজন করে। মানবিক উদ্যোগ হিসেবেই এই সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি যেন অন্যরকম।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মেডিক্যাল ব্যাঙ্কের সভাপতি ডি আশিস বললেন, 'দুর্গাপুজো, ভোটের সময় রক্তদানের ক্যাম্প কম হয়। বিপদ আপদে মানুষের সমস্যা হয়। ওই ব্যানার মানুষকে একটু সচেতন করার চেষ্টা। তবে নির্বাচনী বিধি মেনেই রক্তদান শিবির করা উচিত। আমরা এখন উপহার দেওয়া বন্ধ করেছি। অনেকে লক্ষ লক্ষ টাকা বাজেট রাখে, সেটা অন্যায়। আমার কাছে সেরকম খবর নেই।'

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের নতুন সার্কুলারে রক্তদান শিবিরেও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই শিবিরগুলিতে কমিশনের অবজার্ভাররা উপস্থিত থেকে খতিয়ে দেখবেন, এর আড়ালে কোনওভাবে অর্থ লেনদেন বা অনিয়ম হচ্ছে কি না।

এই অভিযোগ সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে ক্লাব মহলে। অনেকের আশঙ্কা, অতিরিক্ত নজরদারির ফলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি রক্তদান শিবির আয়োজন থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। আর তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন রোগীরাই, বিশেষ করে যাঁদের জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন।

এরই মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে সচেতনতা মূলক ব্যানার, ‘নির্বাচন ও গ্রীষ্মকাল, বাংলায় রক্ত সঙ্কট, ব্লাড ব্যাঙ্কের পাশে দাঁড়ান।’ যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই তুলে ধরছে।

কুণাল ঘোষের কথায়, গরমকালে এমনিতেই রক্তদাতা কম পাওয়া যায়। তার উপর যদি ক্লাবগুলি প্রশাসনিক জটিলতা বা নজরদারির ভয়ে শিবির আয়োজন কমিয়ে দেয়, তবে ব্লাড ব্যাঙ্কে ভয়াবহ চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Advertisement

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, নির্বাচনের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজরদারি প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন কোনওভাবেই মানবিক উদ্যোগে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেই ভারসাম্য বজায় রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এখন প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কি এই অবস্থানে অনড় থাকবে, নাকি পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছুটা শিথিলতা আনবে? সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের ব্লাড ব্যাঙ্ক, ক্লাব সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ।

 

POST A COMMENT
Advertisement