অমিত শাহ-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কখনও অমিত শাহ, কখনও মমতা। 'হীরক রানি' থেকে 'হল্লার দল'। এদিনের নির্বাচন যেন সত্যজিৎময়। এদিন বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে নাম না করে কেন্দ্রীয় বিজেপিকে 'হল্লার দল' বলে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন অমিত শাহও 'হীরক রানিকে চেনেন তো? কে হীরক রানি? জোরে বলুন তো কে? হীরক রানিকে টাটা বাই বাই করার সময় এসে গিয়েছে'। নাম না করে মমতাকে কটাক্ষ করেন শাহ।
শনিবার কটাক্ষ করে মমতা এদিন বলেন, "এবারে মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে সেই ভোটে নিজে দিতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সব মেশিনারি (নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই) নিয়ে বাংলা দখল করতে আসছে। যেন মনে হচ্ছে 'হল্লা বল', আসছে 'হল্লার দল'। হল্লার রাজা সত্যজিৎ রায়ের একটা সিনেমা ছিল না? দিল্লির বর্গীরা আসছে। জমিদার, পাহারাদাররা আসছে।" এখানেই শেষ নয়, মমতা এও বলেন, "দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটাভাই, মোটাভাইয়ের সাথে এল ইডি আর সিবিআই।'
এদিন মমতা SIR প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, "আমার লড়াই বিজেপির সব ইন্সটিটিউটের সঙ্গে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ যদি ২০১৪-তে এই ভোটার লিস্টে ক্ষমতায় এসেছিল। তাহলে আগে পদত্যাগ করা উচিত। মানুষের নাম কাটার অধিকার কার আছে? ১৯ রাজ্যের সব মেশিনারি নিয়ে বসে আছে। বাংলার লোকরা মাছ খায় কি খায় না? বলছে অন্য জায়গায় মাছ-ডিমের দোকান বন্ধ, খুন করে দিচ্ছে।
আলু চাষিদের প্রসঙ্গে শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, "আমোদ-প্রমোদ বাবু বলেছেন, বাংলায় নাকি চাষিদের আলু পচে যাচ্ছে, ওদের থেকে খবর নেবেন না, ওরা গর্দভের দল। বাংলার আলু চাষিদের কপ ইন্স্যুরেন্স আছে। কারও কোনও ফসল নষ্ট হলে আমরা টাকা দিই, আমরা কিনে নিই। আপনারা জ্ঞান দেবেন না...। কৃষকদের আত্মহত্যা সারা দেশে চলছে, তাদের আগে বাঁচান।"
বাংলায় বিজেপির চাকরি দেওয়া প্রসঙ্গে মমতার কটাক্ষ, "রেলের শূন্যপদ ফিলআপ করেছেন? ওরা নাকি লক্ষ লক্ষ পদ পূরণ করে দেবে! ২০১৪ সালে সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবেন, ২ কোটি চাকরি দেবেন, একজনকেও দিয়েছেন? এরা পাপী। এদের মতে জুমলা করতে পারব না। ওনারা এলে লক্ষ লক্ষ চাকরি দেবে, ১২ বছর হয়ে গেছে আজ পর্যন্ত দেয়নি। বাংলায় রোজগার দিয়েছি, তোমরা ৪০ শতাংশ কমিয়েছো।"
জনবিন্যাস নিয়ে মমতার দাবি, "এরপর ডিলিমিটেশন বিল আনছে, বাংলা ভেঙে টুকরো টুকরো করবে। এরপর এনআরসি আনবে। এই সরকার চান?"
মমতার আরও দাবি, "বাংলা ২ লক্ষ কোটি টাকা পায় ওটা ফেরত দিন। আমাদের যুবসাথীতে ওরা জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে। আমরা পৃথিবীতে প্রথম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করেছি।"
সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, 'ওরা এলে নাকি সপ্তম পে কমিশন করবে, আরে ওটা ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে গেছে। শুধু মিথ্যে কথা।'
ভোটের দিন ইভিএম মেশিন ইচ্ছে করে খারাপ করে তারপর চিপ ঢোকাতে পারে বিজেপি, এমনটাই দাবি করেন মমতা।