তালিকায় সবচেয়ে নজর কাড়ল রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের(Shubhankar Sarkar)এর নাম। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশে করল কংগ্রেস। আরও ১০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস শিবির। সেই তালিকায় সবচেয়ে নজর কাড়ল রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের(Shubhankar Sarkar)এর নাম। তাঁকে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এর আগে রবিবারই এক দফায় ২৮৪ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছিল কংগ্রেস।
প্রথম তালিকাতেই চমক ছিল একাধিক। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরি(Adhir Ranjan Chowdhury)-কে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। পাশাপাশি মৌসম নূরকে(Mausam Noor) মালতীপুর আসনে লড়াইয়ে নামিয়েছে কংগ্রেস। দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশের পর একটি বিষয় স্পষ্ট। নির্বাচনের আগে সংগঠন শক্তিশালী করতে পরিচিত মুখের উপরেই ভরসা রাখছে দল।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পরেই এই প্রার্থী তালিকায় সিলমোহর পড়েছে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি)-র বৈঠকে প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে(Mallikarjun Kharge), প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী(Rahul Gandhi) এবং অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি ভেনুগোপাল(K C Venugopal)।
এ ছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন একাধিক বর্ষীয়ান নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অম্বিকা সোনি, মধুসূদন মিস্ত্রি, সলমন খুরশিদ, টি এস সিংদেও, কে জে জর্জ, পি এল পুনিয়া এবং অমি যাজ্ঞনিক। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধান অধীর রঞ্জন চৌধুরীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, এআইসিসি-র পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীরও(Ghulam Ahmad Mir) আলোচনায় অংশ নেন।
দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কংগ্রেসের কাছে মোট ২,৫০০টি আবেদন জমা পড়েছিল। সেই আবেদনগুলির মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, সংগঠন দক্ষতা এবং স্থানীয় প্রভাব; এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ভোটগণনা ৪ মে। ফলে সময় যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রথম দফায় ২৮৪ এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ প্রার্থী ঘোষণা করে কংগ্রেস কার্যত নিজেদের প্রস্তুতির বার্তা দিতে চাইছে। এই প্রার্থী তালিকা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে? এখন সেটাই দেখার।