অবস্থানে সেলিম-মীনাক্ষীরা যতক্ষণ না পর্যন্ত CEO মনোজ আগরওয়ালের দেখা পাওয়া যাবে, ততক্ষণ নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনেই ধর্না অবস্থানে থাকবে CPIM নেতৃত্ব। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পুলিশের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কথা কাটাকাটির পর বুধবার রাতে অবস্থানের জায়গা আদায় করে নিয়েছেন তিনি। তারপর রাতভর সেখানে ধর্নায় বসেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক নেতানেত্রী।
বুধবার সন্ধ্যায় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীরা টি বোর্ডের সামনে থেকে মিছিল করে যান নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত। তাঁদের দাবি, চক্রান্ত করে ভোটার লিস্ট থেকে একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ দেওয়া যাবে না। আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে, তারপর ভোট ঘোষণা। CEO মনোজ আগরওয়ালের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানান সেলিমরা। তবে CEO দেখা করেননি। অধস্তন কোনও আধিকারিকের কাছে ওই স্মারকলিপি জমা করতে বলেন। কিন্তু বাম নেতৃত্ব অনড়, CEO ছাড়া অন্য কারও হাতে তাঁরা স্মারকলিপি দেবেন না। এরপরই সিদ্ধান্ত হয়, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে রাস্তায় ধর্নায় বসবেন।
রাস্তা জুড়ে অবস্থানে বসায় কলকাতা পুলিশের বিশাল ফোর্স পৌঁছয় নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে। পৌঁছয় প্রিজন ভ্যানও। বিবাদী বাগের রাস্তায় এক পুলিশ কর্মী এসে মহম্মদ সেলিমকে উঠে যেতে বলেন। তারপরই শুরু হয় যুক্তি, পাল্টা যুক্তি। রাত ৯টা থেকে ৯টা ৪৫ পর্যন্ত চলল সেই স্নায়ুযুদ্ধ। এক দিকে DC সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে, CPIM রাজ্য সম্পাদক। মুখোমুখি না হলেও দুই পক্ষ একে অপরকে বার্তা পাঠান 'দূত'-এর মাধ্যমে।
পুলিশের যুক্তি ছিল, গোটা রাস্তা জুড়ে অবস্থান করা যাবে না, জায়গা সংকুচিত করতে হবে। ছোট গাড়ি চলাচলের জন্য একটি লেন ছেড়ে দিয়ে অপর লেনে অবস্থান কর্মসূচি করতে হবে। DC সেন্ট্রালের পাঠানো পুলিশ কর্মীকে সেলিম সাফ জানান, প্রিজন ভ্যান সরাতে হবে আগে নচেৎ রাজভবনের সামনে কিংবা ডোরিনা ক্রসিংয়ে তৃণমূলের জন্য প্রস্তুত ধর্নাস্থলে গিয়ে বসবেন তাঁরা। রাত ৯টা ২০ নাগাদ সেলিমের বার্তা নিয়ে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় DC সেন্ট্রালকে দাবিগুলি জানান। পুলিশ প্রিজন ভ্যান সরিয়ে নেওয়ার বামেরাও তাদের অবস্থানের জায়গা সংকুচিত করে ফেলে।
রাতভর বামেদের নেতানেত্রীরা অবস্থান করেন CEO দফতরের সামনে। মহম্মদ সেলিম বলেন, 'রেড রোডে মমতা যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি করেন, তখন পুলিশ সহযোগিতা করে। ২১ জুলাই রাস্তা বন্ধ করে, পুলিশি পাহাড়ায় মঞ্চ হয়। তৃণমূলের সব বিধায়ক-কাউন্সিলর ও তাঁদের ছেলেদের দামি গাড়ি রয়েছে। তাই রাতে এখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে পুলিশকে।' তাঁর স্পষ্ট কথা, '৬০ লক্ষ মানুষের নাম ঝুলিয়ে রেখেছে মমতার প্রশাসন। উনি সুপ্রিম কোর্টে যাননি। মিথ্যে প্রচার। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মোস্তারি বানু।'
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের কথায়, 'বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে পার পাবে না কমিশন। বৈধ ভোটাররা লিস্টে থাকবেন না, কমিশনের অফিসাররা বহাল তবিয়তে থাকবেন, দু'টো একসঙ্গে হবে না।' তাঁদের সঙ্গেই অবস্থানে বসেছেন এভারেস্টজয়ী পীয়ালী বসাকও। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'জনগণের ট্যাক্সের টাকায় মাইনে পায় ওরা। আর এখন বাদ দিচ্ছে লোকজনকে। ৫ বছর ধরে তারা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কী করেছে? এভাবে তারা আর ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।'