ট্রাইব্যুনাল উত্তীর্ণ ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন?নজিরবিহীন সব ঘটনা দেখেছে পশ্চিমবঙ্গের SIR। এই রাজ্যে জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে বিচারাধীন বা অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। আর সেখানে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের আবেদন করতে হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। এখন প্রশ্ন হল, যাঁদের নাম এই ট্রাইব্যুনাল থেকে ভোটার তালিকায় 'অ্যাড' করার পরামর্শ দেওয়া হবে, তাঁরা কি এবার ভোট দিতে পারবেন? আর সেই প্রশ্নেরই উত্তর আজ দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।
মাথায় রাখতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার লিস্ট ইতিমধ্যেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে আপাতভাবে ট্রাইব্যুনাল নাম অ্যাড করার কথা বললেও ২০২৬-এ ভোট দেওয়ার আশা তেমন একটা থাকছে না। কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই আর্জি জানান হয়েছে। সেই মতো আজ এই বিষয়ে নিজের মতামত জানাতে পারে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তাই সেই দিকেই তাকিয়ে থাকবেন ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটাররা।
কবে ভোটার লিস্ট ফ্রিজ করা হয়েছে?
আমাদের রাজ্যে দুই দফায় ভোট। প্রথম দফায় ভোট রয়েছে ২৩ এপ্রিল। আর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। এমতাবস্থায় ৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটার লিস্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় দফার ভোটার লিস্ট ফ্রিজ হয়েছে ৯ এপ্রিল। এই দুইদিনই ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ।
দেশের আইন অনুযায়ী, নমিনেশন জমা দেওয়ার রাত ১২টা নাগাদ ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যায়। এই তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারেন। বাদবাকি কেউ পারেন না।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এবার অদ্ভুত পরিস্থিতি। অনেকের নামই বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বাদ গিয়েছে। তাঁরা আবেদন জানাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালে। আর সেই সব ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি করবে ট্রাইব্যুনাল।
এমন পরিস্থিতি দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই প্রশ্ন উঠছে যে, যাঁদের ট্রাইব্যুনাল থেকে ভোটার লিস্টে ঢোকানোর পরামর্শ দেওয়া হবে, তাঁরা কি ভোট দিতে পারবেন? আর সেই প্রশ্নের উত্তরই মিলতে পারে আজ।
এই প্রসঙ্গে বলি, সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাতে রয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে আদালত নিজের মতো করে নির্দেশ দিতে পারে। এখন দেখার তাঁরা কী জানায়।
পরিশেষে বলি, এই ট্রাইব্য়ুনালে নাম বাদ গেলেই ভেঙে পড়বেন না। বরং এরপর আপনি চাইলে আদলতে আবেদন করতে পারেন।