প্রচারে সাম্য গঙ্গোপাধ্যায়।-ফাইল ছবিরায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বাম আমলের প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ব্যাটন তুলে দিয়েছেন ছেলে সাম্যর হাতে। ফলে ২০২৬-এর ভোটে এই কেন্দ্রে লড়াই আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সুন্দরবন অঞ্চলে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজ আজও মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। তাঁর মন্ত্রীত্বকালের উন্নয়নই এখন প্রচারের বড় অস্ত্র। সেই ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখেই এগোচ্ছেন সাম্য। আইন নিয়ে পড়াশোনা করা এই সমাজসেবী প্রার্থী স্থানীয় সমস্যাগুলিকেই তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন। এলাকার মানুষও তাঁদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি তাঁর কাছে জানাচ্ছেন।
দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস তুলে ধরে বাম শিবির বলছে, বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রাতে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁর ছেলে সাম্য এবং স্থানীয় কর্মীরাই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়েও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে সাম্যর।
bangla.aajtak.in-কে সাম্য বললেন, 'সারা রাজ্যে যেমন দুর্নীতি আছে, রায়দিঘিতেও আছে। এখানে পঞ্চায়েতে বিভিন্ন দুর্নীতি। ২০১১ সালে পর থেকে নতুন কোনও কাজ হয়নি। রায়দিঘি থেকে জয়নগর রেললাইনের দাবি দীর্ঘদিনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু রেলের বাজেটেই লেখা হয়নি। রায়দিঘির বিভিন্ন প্রান্তের রাস্তার ভগ্নদশা। তখন যে রাস্তাগুলো হয়েছিল, সেগুলির কোনও সংস্কার হয়নি। এসব কথাই তুলে ধরছি প্রচারে।'
পুত্রের প্রচার নিয়ে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'ও তো বহুবছর ধরে আমার কাজের সঙ্গে যুক্ত। নতুন করে ওকে পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। আমি বলেছি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাও। মানুষকে বোঝাও। আমার সুন্দরবনের বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে ও সবসময় থাকত। আমার ডান হাত বলতে পারেন। রায়দিঘিতে এবার চাপা ভোট হবে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ মারাত্মক।'
অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছে। গতবারের বিধায়ক ডাঃ অলোক জলদাতাকে সরিয়ে এবার টিকিট দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাপস মণ্ডলকে। তাঁর প্রচারের মূল ভরসা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প।
অপরদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি প্রার্থী পলাশ রানার প্রচারেও রয়েছে আলাদা মাত্রা। গান্ধী টুপি পরে প্রচারে নেমে তিনি নজর কাড়ছেন ভোটারদের।
সব মিলিয়ে, রায়দিঘিতে এবার ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার, সরকারি প্রকল্পের প্রচার এবং নতুন ধরনের নির্বাচনী কৌশল, এই তিনের সংঘাতে শেষ পর্যন্ত কোন পথে রায় দেবে ভোটার, সেটাই এখন দেখার।